দেশে ডেঙ্গুর নতুন ধরন ‘ডেন-৩’ দ্রুত ছড়াচ্ছে। আইইডিসিআরের নমুনায় ৯০ শতাংশের বেশি ডেন-৩ শনাক্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
দেশে হামের পাশাপাশি বর্তমানে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে প্রাণঘাতী ডেঙ্গু সংক্রমণ। এর মধ্যেই আইইডিসিআরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চলতি মৌসুমে ডেঙ্গুর ভয়ংকর নতুন ধরন ‘ডেন-৩ সেরোটাইপ’ দ্রুত সংক্রামিত হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও আইইডিসিআরের তথ্য অনুযায়ী, সময়মতো কঠোর সতর্কতা অবলম্বন না করলে চলতি মৌসুমে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গুর ডেন-১, ডেন-২, ডেন-৩ ও ডেন-৪,এই চারটি ভিন্ন ধরন রয়েছে। অতীতে ২০২০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত টানা তিন বছর দেশে ‘ডেন-২’-এর প্রাধান্য থাকলেও চলতি বছর নতুন করে ডেন-৩ এর প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুল্লাহ ওমর নাসিফ জানান, এ বছর জুনের শেষের দিক থেকে সংগৃহীত রোগীদের নমুনা পরীক্ষা করে ৭১টি নমুনার সেরোটাইপিং করা হয়েছে। এর মধ্যে অবিশ্বাস্যভাবে ৬৫টিতেই ডেঙ্গুর ‘ডেন-৩’ ধরন শনাক্ত হয়েছে, যা মোট নমুনার প্রায় ৯১.৫ শতাংশ। বাকি নমুনাগুলোতে ডেন-২ পাওয়া গেছে। পাহাড়ি ও উপকূলীয় অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এই ধরন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার মনে করেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, যত্রতত্র ওয়ানটাইম প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলা এবং পানি জমিয়ে রাখার প্রবণতাই এডিস মশার এই লাগামহীন বিস্তারের জন্য দায়ী।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫৫৮ জন। চলতি বছরে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪২ হাজার ৫৯০ জন এবং মারা গেছেন ১১৭ জন। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এএমএ মুহিত এক ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত ডাটা ও তথ্যের ভিত্তিতে দেখা যাচ্ছে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে ডেঙ্গুর প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। তাই অক্টোবরের আগেই মাঠপর্যায়ে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে এবং সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।