সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কাছাকাছি অবস্থিত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনায় শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিস্ফোরকভর্তি ড্রোন ব্যবহার করে বড় ধরনের হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এই হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত শনিবার (৩ অক্টোবর) সৌদির রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকোর একটি শোধনাগার বা তেল স্থাপনা এলাকা থেকে হঠাৎ করেই বিশাল অগ্নিশিখা ও ঘন কালো ধোঁয়া আকাশে উড়তে দেখা যায়। দুর্ঘটনার পরপরই জরুরি ভিত্তিতে সেখানে ফায়ার সার্ভিস ও দমকলকর্মীরা উপস্থিত হয়ে দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে এই অগ্নিকাণ্ড বা বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাপ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে সৌদি কর্তৃপক্ষ কিংবা আরামকো কর্র্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য বা বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
এদিকে হুথি বিদ্রোহীদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক পোস্টে এই হামলার দায় স্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন যে, তাদের নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সরাসরি নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে এবং এর ফলে ওই তেল স্থাপনাগুলোতে বড় ধরনের আগুন ধরে যায়। ইয়েমেনে হুথিদের নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন অঞ্চলে সম্প্রতি সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের অব্যাহত বিমান হামলার তীব্র প্রতিশোধ হিসেবেই এই পাল্টা আক্রমণ চালানো হয়েছে বলে জানান তিনি। ইয়াহিয়া সারি আরও দাবি করেন যে, গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে হুথিনিয়ন্ত্রিত এলাকার বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৬০টি বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে তেল শোধনাগারের মতো সংবেদনশীল জ্বালানি অবকাঠামোতে এই হামলার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
মন্তব্য করুন