সরকারি ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহারের ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা জারির পর নতুন করে সরগরম হয়ে উঠেছে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন। এই প্রজ্ঞাপনকে রাষ্ট্রের ইতিবাচক সংস্কার ও পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন। সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দীর্ঘ এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বর্তমান সরকারের কার্যক্রম ও চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন।
রাশেদ খাঁন তার পোস্টে উল্লেখ করেন, সরকারি দপ্তরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কিংবা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছবি ব্যবহৃত হচ্ছে না, যা একটি বড় ধরনের পরিবর্তন। তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকার কথার সঙ্গে বাস্তবের মিল রেখে চলছে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করবেন। এ সময় দেশবাসীকে কিছুটা ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অন্যান্য বিরোধী দলের সমালোচনা করে রাশেদ খাঁন বলেন, কামড়াকামড়ি করে রাষ্ট্রের পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। তিনি প্রশ্ন রাখেন, বিএনপি যদি ব্যর্থ হয়, তবে বিরোধী দলগুলো দেশ চালাতে সক্ষম হবে কি না, যেখানে তারা নিজেরাই নিজেদের অবস্থান পরিচালনা করতে হিমশিম খাচ্ছে। তিনি বিরোধী দলগুলোকে আরও ১০ থেকে ১৫ বছর বিরোধী দলে থেকে নিজেদের যোগ্য করে তোলার পরামর্শ দেন।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্যে এই বিএনপি নেতা সতর্ক করে বলেন, এখনই ক্ষমতার মোহে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করলে আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কোনো দলের লাভ হবে না। তিনি জামায়াত-শিবিরের উদ্দেশ্যে বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরলে সবার পরিণতি কী হবে তা সহজেই অনুমেয়। তার ভাষায়, জামায়াত যেন রিমোট কন্ট্রোলে চলে, এক চাপে সবকিছু নাই হয়ে যেতে পারে। তাই আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন ঠেকাতে ও নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে জামায়াত-শিবিরের স্বার্থেই বিএনপিকে ক্ষমতায় রাখা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
রাশেদ খাঁনের এই পর্যবেক্ষণকে আপনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণের প্রেক্ষাপটে কীভাবে দেখছেন? জামায়াত ও বিএনপির এই পারস্পরিক রাজনৈতিক নির্ভরশীলতা কি দীর্ঘমেয়াদে দেশের রাজনীতির জন্য ইতিবাচক না নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন? আপনার মতামত আমাদের জানাতে পারে
মন্তব্য করুন