বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি এখন এক চরম উত্তেজনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলা সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে এই নৌপথ দিয়ে চলাচলকারী অন্তত ছয় হাজার নাবিক ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে পড়েছেন। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) প্রধান আর্সেনিও ডমিঙ্গেজ এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, কেবল নিজেদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নাবিকদের এভাবে জীবনের ঝুঁকি নেওয়াটা মোটেও কাম্য নয়। এই সংকটের পেছনে হাজার হাজার নাবিকের পাশাপাশি তাদের পরিবারগুলোও এক বিশাল মানসিক ও মানবিক মূল্য পরিশোধ করছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর। সাম্প্রতিক হামলাগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে আইএমও কর্তৃপক্ষ নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। সংঘাতের কারণে জাহাজ চলাচলের পথ অনিরাপদ হয়ে পড়ায় অনেক নাবিক সেখানে অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। অন্যদিকে, ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ পাল্টা হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, যেকোনো হামলার কড়া জবাব দেওয়া হবে। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে হরমুজ প্রণালি পরিচালনার বিষয়টি ইরানের নিজস্ব নীতিমালার ওপর নির্ভর করবে, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো হুমকিতে নয়।
সামুদ্রিক বাণিজ্যের এই করিডোরটি বিশ্ব অর্থনীতির লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত। কিন্তু এই মুহূর্তে সেখানে যে ধরনের অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, তাতে জ্বালানি সরবরাহ এবং সাধারণ পণ্য পরিবহনের নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। আর্সেনিও ডমিঙ্গেজ পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি এবং আটকা পড়া নাবিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সক্রিয় কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। সংকট নিরসন না হওয়া পর্যন্ত নাবিকদের জীবনের নিরাপত্তার বিষয়টিই এখন সবার উপরে থাকা উচিত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই অস্থিরতা যদি দ্রুত প্রশমিত না হয়, তবে এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব সামুদ্রিক বাণিজ্য ব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করে তুলতে পারে।
মন্তব্য করুন