প্রাচীনকালে রাজা-বাদশা কিংবা জমিদারদের আমলেই কেবল ঢোল পিটিয়ে ডিক্রি জারি বা সীমানা নির্ধারণের প্রচলন দেখা যেত। আধুনিক যুগে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে ফরিদপুর আদালত। দীর্ঘ ৫৭ বছর আগে বন্ধক রাখা এবং প্রায় ১৬ বছরের দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে আদালতের নির্দেশে সোমবার দুপুরে ঢোল পিটিয়ে জমির প্রকৃত মালিককে দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফরিদপুর সদর উপজেলার অম্বিকাপুর ইউনিয়নের চর নশিপুর গ্রামে এই ব্যতিক্রমী ঘটনাটি ঘটে।
জানা যায়, ১৯৬৯ সালে চর নশিপুর গ্রামের বাসিন্দা ওয়াজ উদ্দিন শেখ মাত্র ১ হাজার ৩০০ টাকায় পাঁচ বছরের জন্য এক একর ৩২ শতাংশ জমি আলম খাঁ নামের এক ব্যক্তির কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন। কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী মেয়াদের পর জমি ফেরত চাওয়ার কথা উঠলেই টালবাহানা শুরু করেন আলম খাঁ। এমনকি বন্ধক রাখার মাত্র দুই বছরের মাথায় জমির মূল মালিককে না জানিয়ে তা অন্যের কাছে হাতবদলও করা হয়। নিরুপায় হয়ে জমির দখল ফিরে পেতে ২০১০ সালে আদালতে দেওয়ানি মামলা করেন ওয়াজ উদ্দিন শেখ। কিন্তু মামলা চলাকালেই আইনি প্রক্রিয়া দেখে যাওয়ার সুযোগ না পেয়ে বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।
বাবার মৃত্যুর পর অদম্য লড়াই চালিয়ে যান তার ছেলে মাজেদুর রহমান। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে নিম্ন আদালত থেকে শুরু করে উচ্চ আদালতের বারান্দায় ঘুরে অবশেষে হাইকোর্ট থেকে চূড়ান্তভাবে নিজের পক্ষে রায় পান মাজেদুর। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সংশ্লিষ্ট আদালতের নাজির, সার্ভেয়ার, অ্যাডভোকেট কমিশনার এবং পুলিশ প্রশাসনের সমন্বয়ে গঠিত একটি দল চর নশিপুর গ্রামে উপস্থিত হয়। সেখানে প্রাচীন প্রথার মতো ঢোল পিটিয়ে আদালতের ডিক্রি জারির ঘোষণা দেওয়া হয় এবং জমিতে থাকা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে লাল পতাকা টানিয়ে প্রকৃত মালিক মাজেদুর রহমানকে জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়। দুই প্রজন্মের এই দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে ন্যায়বিচার পাওয়ার সন্তুষ্টি থাকলেও বাবা জমিটি মুক্ত দেখে যেতে না পারার আক্ষেপ রয়ে গেছে বলে জানান মামলার বর্তমান বাদী মাজেদুর রহমান।
মন্তব্য করুন