লালমনিরহাটের তিনটি উপজেলার অন্তত চারটি সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ প্রায় ৩০ জনকে বাংলাদেশে জোরপূর্বক ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে শুরু করে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে বিএসএফের এই পুশইনের চেষ্টা চলে। তবে সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদার করার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সক্রিয় সহযোগিতায় বিজিবি এই অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টাগুলো সফলভাবে নস্যাৎ করে দিতে সক্ষম হয়েছে। অনুপ্রবেশের এই ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে বর্তমানে সংশ্লিষ্ট সীমান্ত এলাকাগুলোতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং বিএসএফের মধ্যে এক টানটান উত্তেজনা ও মুখোমুখি অবস্থান বিরাজ করছে।
লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আদিতমারী উপজেলার দীঘলটারী ও দুর্গাপুর সীমান্তের মেইন পিলারের কাছে গভীর রাতে বেশ কিছু সন্দেহভাজন ব্যক্তির উপস্থিতি টের পান বিজিবি সদস্যরা। তাৎক্ষণিকভাবে হ্যান্ডমাইকের মাধ্যমে সতর্কবার্তা দেওয়া হলে বিএসএফের পাহারায় থাকা ওই ব্যক্তিরা ভারতীয় অংশের দিকে পিছিয়ে যেতে বাধ্য হয়। এই ঘটনার পর অনুপ্রবেশের চেষ্টা করা ব্যক্তিদের সঠিক পরিচয় শনাক্ত করার জন্য ভারতীয় রানীনগর-৩ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের সঙ্গে একটি জরুরি পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছে বিজিবি। তবে বিজিবির পক্ষ থেকে বারবার যোগাযোগ ও উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কাছ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক সাড়া পাওয়া যায়নি।
একই সময়ে জেলার হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলার সীমান্তগুলোতেও একই ধরনের পুশইনের ঘটনা ঘটেছে। হাতীবান্ধার ফকিরপাড়া ইউনিয়ন সীমান্ত দিয়ে ভোররাতে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১২ জনকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। খবর পেয়ে তিস্তা-৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের বড়খাতা কোম্পানির টহল দল স্থানীয় গ্রামবাসীদের সাথে নিয়ে সীমান্তে প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং তাদের বাংলাদেশে ঢোকা বন্ধ করে দেয়। অন্যদিকে পাটগ্রামের শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ঝালাঙ্গী সীমান্ত দিয়ে একইভাবে আরও ১০ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করা হলে বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দারা যৌথভাবে তা প্রতিহত করেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, অনুপ্রবেশের শিকার হওয়া এই মানুষগুলো তাদের লাগেজ ও মালপত্র নিয়ে সীমান্তের শূন্যরেখায় অত্যন্ত অসহায় অবস্থায় অবস্থান করছেন।
সীমান্তের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তিস্তা-৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর তানভীর আহমেদ জানান, হাতীবান্ধা ও পাটগ্রামের দুটি সীমান্ত দিয়ে মোট ২১ জনের অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টা বিজিবি কঠোরভাবে রুখে দিয়েছে। বর্তমানে পুরো বিষয়টি নিয়ে উচ্চপর্যায়ে কাজ চলছে এবং পরবর্তীতে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে। এদিকে লালমনিরহাটের একাধিক সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে বিএসএফের এই পুশইনের চেষ্টা এবং তা সফলভাবে প্রতিহত করার বিষয়টি বিজিবির রংপুর সেক্টর কমান্ড থেকেও আলাদা একটি বিবৃতির মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবি সদস্যদের কড়া নজরদারি ও সতর্ক পাহারা অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন