মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ২৬টিরও বেশি সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে ইরান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) এক বিশ্লেষণাত্মক প্রতিবেদনে জানানো হয়, এই হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের শত শত কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম ও শত শত অবকাঠামো ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দুই ডজনেরও বেশি সামরিক ঘাঁটি ও কৌশলগত স্থাপনায় ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইরান ও তাদের সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো। এসব হামলায় মার্কিন বাহিনীর আগাম সতর্কতাব্যবস্থা, যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার, রশদের গুদাম এবং সেনাদের আবাসন ক্ষেত্রগুলো ধ্বংস বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক শ কোটি (বিলিয়ন) ডলারের সামরিক ক্ষতি সাধিত হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
এ একাধিক প্রতিষ্ঠানের দেওয়া উপগ্রহ (স্যাটেলাইট) চিত্র পর্যালোচনা এবং মধ্যপ্রাচ্যের চারজন উচ্চপদস্থ আঞ্চলিক কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে এই বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ করেছে। এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত আগস্ট পর্যন্ত সময়ে ইরান ও তাদের মিত্রদের পরিচালিত ১১৫টিরও বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ২৬টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটির অবকাঠামো ভেঙে পড়ে।
হামলার কৌশল ও ক্ষয়ক্ষতির ধরন: এপির বিশ্লেষণ থেকে জানা যায়, ইরানি বাহিনী অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে প্রথমে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর রাডার, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এবং আগাম সতর্কতাব্যবস্থা লক্ষ্য করে হামলা চালায়। প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়ার পর আঘাত হানা হয় যুদ্ধবিমান রাখার হ্যাঙ্গার, যোগাযোগব্যবস্থা, গুদামঘর এবং সেনাদের আবাসনে। গত ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সময়েই কয়েক শ ভবন ধ্বংস হয়।
আঞ্চলিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘাঁটির চরম ক্ষয়ক্ষতির কারণে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে যুক্তরাষ্ট্র বাধ্য হয়ে তাদের বহু যুদ্ধবিমান, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম সরিয়ে নিয়েছে।
নতুন উদ্বেগের মুখোমুখি মার্কিন প্রশাসন: এমনিতেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন করে সামরিক অভিযানের পূর্বাভাস এবং তেহরানের পাল্টা আঘাতের কড়া হুঁশিয়ারির মধ্যে এই তথ্য সামনে আসায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন প্রতিরক্ষাব্যবস্থার সক্ষমতা ও নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। নতুন করে সংঘাত শুরু হলে এসব ঘাটিতে আরও বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। এপির এই প্রতিবেদন মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির এক নজিরবিহীন চিত্র উন্মোচন করেছে।