প্রথম স্ত্রীকে না জানিয়ে বা তার সম্মতি ছাড়াই দ্বিতীয় বিয়ে করা ইসলামি শরিয়তে বৈধ হলেও বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে এর জন্য সুনির্দিষ্ট সালিশি পরিষদের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। অনুমতি ছাড়া বিয়ে করলে জেল-জরিমানা ও দেনমোহর পরিশোধের আইনি বিধান রয়েছে।
প্রথম স্ত্রীকে না জানিয়ে কিংবা তাঁর অগোচরে গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করা জায়েজ আছে কি না—এ নিয়ে সমাজে নানা রকম কৌতূহল ও প্রশ্ন রয়েছে। ইসলাম ধর্মে একাধিক বিয়ের অনুমতি থাকলেও এর কিছু কঠোর শর্ত ও সুনির্দিষ্ট দায়িত্বের কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের প্রচলিত আইনেও দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে দ্বিতীয় বিয়ে: ইসলামি ফিকহি ব্যাখ্যা অনুযায়ী, দ্বিতীয় বিয়ের জন্য প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নেওয়া বা তাঁকে আগে থেকে জানানোকে বিয়ের বৈধতার শর্ত হিসেবে গণ্য করা হয়নি। মিসরের সরকারি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ‘দারুল ইফতার’-এর ফতোয়া অনুযায়ী, দ্বিতীয় বিয়ে করতে প্রথম স্ত্রীর সম্মতি নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তবে স্বামীকে অবশ্যই একাধিক স্ত্রীর মধ্যে সমতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার কঠোর দায়িত্ব পালন করতে হবে।
পবিত্র কুরআনের সুরা নিসার ৩ নম্বর আয়াতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, একাধিক (দুই, তিন বা চারজন) নারীকে বিয়ে করা অনুমোদিত, তবে যদি আশঙ্কা থাকে যে সবার প্রতি ন্যায়বিচার করা সম্ভব হবে না, তবে কেবল একজনকেই বিয়ে করতে হবে।
ইসলামওয়েবের ফতোয়ায় বলা হয়েছে, শুধু প্রথম স্ত্রীকে না জানিয়ে গোপনে বিয়ে করা হয়েছে বলে সেই বিয়েকে অবৈধ বলা যাবে না। তবে শর্ত থাকে যে, কাবিননামায় বা বিয়ের চুক্তিতে যদি প্রথম স্ত্রী এমন কোনো শর্ত জুড়ে দেন যে স্বামী তাঁকে না জানিয়ে বা দ্বিতীয় বিয়ে করতে পারবেন না এবং স্বামী তা মেনে নেন, তবে সে ক্ষেত্রে সেই চুক্তি বা শর্ত রক্ষা করা বাধ্যতামূলক।
বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে দ্বিতীয় বিয়ের নিয়ম: ধর্মীয় বিধানের পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে কঠোর আইনি প্রক্রিয়া ও পূর্বানুমতির বিধান রয়েছে। ‘মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১’-এর ৬ ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির প্রথম স্ত্রী জীবিত ও বিদ্যমান থাকা অবস্থায় তিনি সালিশি পরিষদের (Arbitration Council) লিখিত পূর্বানুমতি ছাড়া আরেকটি বিয়ে করতে পারবেন না।
এই আইনি অনুমতি পাওয়ার জন্য এলাকার সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা চেয়ারম্যানের নিকট নির্দিষ্ট নিয়মে আবেদন করতে হয়। আবেদনে দ্বিতীয় বিয়ে করার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীদের সম্মতি রয়েছে কি না, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হয়। এরপর সালিশি পরিষদ উভয় পক্ষের প্রতিনিধি ও বক্তব্য বিবেচনা করে বিয়েটিকে প্রয়োজনীয় বা ন্যায়সংগত মনে করলে তবেই অনুমতি প্রদান করে।
আইনি অমান্যতার শাস্তি: আইন অমান্য করে সালিশি পরিষদের লিখিত অনুমতি ছাড়াই যদি কেউ দ্বিতীয় বিয়ে করেন, তবে তাঁকে বেশ কিছু আইনি পরিণতির মুখোমুখি হতে হয়:
প্রথম স্ত্রী বা স্ত্রীদের তাৎক্ষণিকভাবে সম্পূর্ণ বকেয়া দেনমোহর নগদ পরিশোধ করতে হবে।
অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষী ব্যক্তির জন্য এক বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের আইনি বিধান রয়েছে।