বিদেশি সন্ত্রাসী সংস্থায় যোগদান ও সন্ত্রাসী হামলায় অর্থায়নের দায়ে নিজ দেশের ৫ নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে সৌদি আরব।
সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডে সরাসরি লিপ্ত থাকা, নিরাপত্তাবাহিনীর ওপর হামলা এবং সন্ত্রাসী সংস্থাকে অর্থায়নের অভিযোগে নিজ দেশের পাঁচ নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর) এই দণ্ড কার্যকরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। গুরুতর নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসীমূলক অপরাধ সংঘটিত করায় বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে তাদের এই সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করা হয়।
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা একটি বিদেশি নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠনে যোগদান করেছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্য, পুলিশের গাড়ি এবং প্রশাসনিক সদরদপ্তর লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি ছোঁড়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। একই সাথে তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। তারা সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করতে বিভিন্ন সন্ত্রাসী হামলায় সরাসরি অর্থায়ন ও সার্বিক সহায়তা প্রদান করে আসছিলেন।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ওই পাঁচ সৌদি নাগরিকের নাম ও পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারা হলেন মুহাম্মদ বিন মুনির বিন মুহাম্মদ আল-যাহের, আলী বিন আবদির রব্ব আল-হুসাইন আল-শেখ, হাসান বিন জাকি বিন মুহাম্মদ আল-ফারাজ, রেদা বিন মুহাম্মদ বিন আলী আল আবু আব্দুল্লাহ এবং আলী ইবনে হাসান বিন আহমাদ আল-রিবহ। তাঁরা সকলেই সৌদি আরবের স্থায়ী বাসিন্দা ও নাগরিক ছিলেন।
সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়, অপরাধ সংঘটনের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণসহ দেশের বিচারবিভাগে সোপর্দ করা হয়। আদালত সমস্ত বিচারিক প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে অভিযোগের তীব্রতার ভিত্তিতে ইসলামী আইনের নির্দেশিকা অনুযায়ী ‘তাজির’ হিসেবে তাদের মৃত্যুদণ্ডের চূড়ান্ত রায় দেন। পরবর্তীতে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে আপিল বিভাগ এবং সুপ্রিম কোর্টও নিম্ন আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। পরিশেষে শরিয়াহ আইন মোতাবেক দণ্ড কার্যকরের জন্য রাজকীয় আদেশ বা ডিক্রি জারি করা হয়। দেশের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আজ শনিবার তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।