টানা ৩০ ঘণ্টা কার্যালয়ে অবরুদ্ধ থাকার পর উদ্ধার হওয়া চুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সরকারের সহযোগিতায় দ্রুত সুস্থ হয়ে ক্যাম্পাসে ফেরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
টানা ৩০ ঘণ্টা কার্যালয়ে অবরুদ্ধ থাকার পর উদ্ধার হওয়া চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতা রয়েছে তার প্রতি। সুচিকিৎসা নিয়ে দ্রুত সুস্থ হওয়ার পর পুনরায় ক্যাম্পাসে ফিরে গিয়ে দায়িত্ব পালনের পরামর্শও দিয়েছে সরকার।
গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুলিশ ও স্থানীয় জেলা প্রশাসনের সহায়তায় অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করার পর তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে উপাচার্যকে চিকিৎসকদের ২৪ ঘণ্টার নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনার জন্য একটি বিশেষ বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে, যাদের পক্ষ থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তার শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ তথ্য জানানো হবে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় উপাচার্য জানান, দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ থাকার পাশাপাশি বিদ্যুৎহীন ও প্রতিকূল পরিবেশের কারণে তাদের সঙ্গে থাকা মোট ১১ জনের স্বাস্থ্যের চরম অবনতি ঘটে। পরিস্থিতির কারণে বেশ কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং সঙ্গে থাকা দুই অ্যালামনাই সদস্যের শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে তাদের মধ্যে একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়। পরবর্তীতে সরকারি চিকিৎসক ও সিভিল সার্জনের পরামর্শক্রমে উপাচার্যকেও হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসা হয়।
এদিকে পদত্যাগ করা কিংবা ভবিষ্যতে আর চুয়েট ক্যাম্পাসে না ফেরার যে সংবাদ ছড়িয়ে পড়েছে, তাকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করেছেন অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, তিনি পদত্যাগ করেছেন কিংবা ভবিষ্যতে ক্যাম্পাসে যাবেন না এমন কোনো বক্তব্য বা বিবৃতি দেননি। উদ্ধার করে নিয়ে আসার সময়ে তার কথা বলার মতো অবস্থা ছিল না উল্লেখ করে তিনি সংবাদমাধ্যমকে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য প্রচারের আহ্বান জানান।
একইসঙ্গে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি অনুরোধ জানান, যেন তারা কোনো স্বার্থান্বেষী মহলের প্ররোচনায় না পড়ে নিজেদের অমূল্য শিক্ষাজীবন নষ্ট না করে। তিনি উল্লেখ করেন, কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ বা দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে নয়, বরং রাষ্ট্র কর্তৃক অর্পিত দায়িত্ব পালন করতেই তিনি চুয়েটে এসেছেন।
উল্লেখ্য, গত সোমবার সকালে উপাচার্য কার্যালয়ের তালা ভেঙে প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশ করার পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাকে দুপুর ১২টার মধ্যে কার্যালয় ছাড়ার সময় বেঁধে দেন। নির্ধারিত সময়ে তিনি কার্যালয় না ছাড়ায় পুনরায় মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয় এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। দীর্ঘ ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের উপস্থিতিতে পুলিশি পাহারায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।