কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির কাছে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ এলে তা ডুবিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ হরমুজ প্রণালির দিকে এগিয়ে এলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার সরাসরি হুমকি দিয়েছে ইরান। দেশটির শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌকমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আলি আজমায়ি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, ইরানি বাহিনী মার্কিন রণতরি ও যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে অপেক্ষা করছে।
এক টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে তিনি দাবি করেন, নিজেদের কৌশলগত দুর্বলতার কারণেই মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো এখন হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি আসার সাহস পাচ্ছে না। এমনকি প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার মূল্যের যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমানবাহী রণতরি বর্তমানে এই প্রণালি থেকে ৭০০ কিলোমিটার দূরে সরে অবস্থান নিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে এই সমুদ্রপথ কার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে তা পরখ করতে যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি সেখানে আসার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন এই ইরানি কমান্ডার।
অন্যদিকে ইরানের এই দাবি ও হুমকি কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় সেন্টকম জানায়, আইআরজিসি কমান্ডারের মন্তব্যের বাস্তব কোনো ভিত্তি নেই। বর্তমানে হরমুজ প্রণালি স্পষ্টতই যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এমনকি সোমবারও প্রণালিটি দিয়ে প্রায় এক কোটি ৯০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল নিরাপদে পরিবহণে উপসাগরীয় মিত্রদের সহায়তা করেছে মার্কিন বাহিনী।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই পাল্টাপাল্টি বাগযুদ্ধ এবং উত্তেজনার মধ্যেই ওই অঞ্চলে নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও বেড়েছে। যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্যবিষয়ক সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির ভেতরে অজ্ঞাত কোনো বস্তু বা অস্ত্রের আঘাতে একটি বাণিজ্যিক কনটেইনারবাহী জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহণ পথটিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মুখোমুখি অবস্থান বড় ধরনের সংঘাতের শঙ্কা তৈরি করছে।