বর্ণাঢ্য নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাট শামছুন মহসীন উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস’ উদযাপিত হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল থেকেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ মুখরিত ছিল শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এবং উৎসবমুখর পরিবেশে।
দিবসটি উপলক্ষে সকালে বিশেষ অ্যাসেম্বলির মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের এডহক কমিটির সদস্যদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে র্যালিটি পুনরায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। এ সময় শিক্ষকদের গায়ে একই রঙের এবং শিক্ষিকাদের অভিন্ন পোশাকের নান্দনিক উপস্থিতি অনুষ্ঠানে এক অন্যরকম আনন্দের আবহ তৈরি করে। র্যালি শেষে শিক্ষার্থীদের নিজ হাতে লেখা সম্মাননা সনদ উন্মোচন করা হয়, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রিয় শিক্ষকদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ করেন। পরে কেক কাটা, শিক্ষকদের ফুলেল শুভেচ্ছা এবং আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি পূর্ণতা পায়।
তবে উৎসবমুখর এই আয়োজনের পাশাপাশি শিক্ষকদের কণ্ঠে জোরালোভাবে ফুটে ওঠে তাদের না পাওয়ার বেদনা ও দীর্ঘদিনের বঞ্চনার কথা। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা সরকারি সুযোগ-সুবিধার সঙ্গে নিজেদের বৈষম্যের কথা তুলে ধরে অবিলম্বে চাকরি জাতীয়করণের দাবি জানান।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক উত্তম কুমার আক্ষেপ করে বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের চিকিৎসাভাতা ৩ হাজার টাকা হলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা পান মাত্র ৫০০ টাকা, বর্তমান বাজারে যা দিয়ে ন্যূনতম চিকিৎসাসেবাও মেটানো সম্ভব নয়। আরেক সহকারী শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই বাজারে বর্তমান বেতন দিয়ে পরিবার নিয়ে টিকে থাকা দায় হয়ে পড়েছে। প্রধান শিক্ষক কাছিদা খাতুন বলেন, দেশের সকল ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার ও নীতিনির্ধারকরা শিক্ষকদের হাত ধরেই গড়ে ওঠেন, তাই বৈষম্য দূর করে মাধ্যমিকের সকল শিক্ষককে একসঙ্গে জাতীয়করণের আওতায় আনতে হবে।
শিক্ষকদের এই দাবির সঙ্গে পূর্ণ একাত্মতা প্রকাশ করেন বিদ্যালয়ের অভিভাবক ও পরিচালনা পর্ষদ। অভিভাবক সদস্য মির্জা আব্দুস সামাদ ও এডহক কমিটির সভাপতি আব্দুল আলিম খান বলেন, গত কয়েক বছরে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বহুগুণ বাড়লেও শিক্ষকদের বেতন বাড়েনি। জাতি গড়ার কারিগর এই মানুষগুলোর যথাযথ মর্যাদা, ন্যায্য পারিশ্রমিক এবং পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে তারা মন্তব্য করেন।
মন্তব্য করুন