ঢাক-কাঁসার শব্দ আর শঙ্খের সুরে মুখরিত হয়ে উঠেছে চারপাশ। ভোরবেলায় মন্ত্রপূত চণ্ডীপাঠ আর মঙ্গলঘট স্থাপনের মধ্য দিয়ে মর্ত্যলোকে আহ্বান জানানো হয়েছে শক্তিরূপিণী দেবী দুর্গাকে। শনিবার অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে সারা দেশে পালিত হয়েছে শুভ মহালয়া। এর মধ্য দিয়েই শেষ হলো পিতৃপক্ষ এবং সূচনা ঘটলো পরম প্রতিক্ষীত দেবীপক্ষের। একই সঙ্গে গণনার সূচনা হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের।
মহালয়া উপলক্ষে রাজধানী ঢাকার ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে ভোর থেকেই ছিল ভক্তদের উপচে পড়া ভিড়। মহানগরে বর্ণাঢ্য এই আয়োজনের সূচনা হয় ভোর ছয়টায় চণ্ডীপাঠের মধ্য দিয়ে। এরপর সাড়ে সাতটায় পূর্বপুরুষদের আত্মার পরম শান্তি কামনায় হাজারো ভক্ত তিল-তর্পণ ও বিশেষ জলদান প্রার্থনায় অংশ নেন। সকাল ৯টায় মহালয়ার ঘট স্থাপন ও বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। বিশেষ এই উদযাপনে ভক্তদের সঙ্গে শামিল হয়েছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।
উৎসবের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটি জানায়, এ বছর সারা দেশে সর্বমোট ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। পঞ্জিকার পঞ্জী অনুযায়ী আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে মূল দুর্গোৎসবের পর্দা উঠবে। টানা ছয় দিনব্যাপী নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান আর উৎসবের আমেজ শেষে আগামী ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটবে এই আনন্দ আয়োজনের।
মন্তব্য করুন