বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক চালচিত্রে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া দুর্নীতির নতুন ও চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। সরকারি মেকানিক থাকা সত্ত্বেও ভুয়া বিলে পাম্প মেরামত, নীতিমালা লঙ্ঘন করে অনভিজ্ঞ ঠিকাদারদের কাজ বণ্টন, অনুমোদন ছাড়া উচ্চতর গ্রেড প্রদান এবং ভাউচার ছাড়াই কোটি কোটি টাকা তুলে নেওয়ার মতো জালিয়াতি ধরা পড়েছে সংস্থাটিতে। সম্প্রতি কৃষি ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের যৌথ নিরীক্ষা দলের দ্বিতীয় পর্বের প্রতিবেদনে সংস্থাটির নতুন ৭৯টি খাতে প্রায় ১২১ কোটি টাকার অনিয়মের চিত্র সামনে এসেছে। এর আগে চলতি মাসের শুরুর দিকে প্রথম পর্বের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে ২৯টি খাতে ৩৪০ কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতির তথ্য প্রকাশিত হয়েছিল, যার ফলে এক অর্থবছরেই বিএমডিএর আর্থিক অনিয়মের মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৬১ কোটি টাকায়।
দুই মন্ত্রণালয়ের ১৬ সদস্যের একটি যৌথ বিশেষজ্ঞ দল বিএমডিএর ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আর্থিক লেনদেন ও কার্যাবলি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে এই রিপোর্ট তৈরি করে। সিএজি দপ্তরে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে দেখা গেছে, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা, বগুড়া ও ঠাকুরগাঁওসহ উত্তরাঞ্চলের ১৬টি জেলার আঞ্চলিক ও উপজেলা কার্যালয়গুলোতে সরকারি বিধিমালার চরম লঙ্ঘন ঘটেছে। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও ও জয়পুরহাটে একটি প্যাকেজ টেন্ডারকে নিয়মবহির্ভূতভাবে শত শত লটে ভাগ করে কাজ বণ্টন করায় প্রায় ২৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া সেচনালা বর্ধিতকরণ প্রকল্পে অনভিজ্ঞ ঠিকাদারদের ৪০ কোটি ৮৮ লাখ টাকার কাজ বণ্টন, শর্ত শিথিল করে নির্দিষ্ট বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া এবং ভূগর্ভস্থ পাম্প কেনায় চার কোটি টাকার বেশি অর্থ অপচয়ের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে।
পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (পিপিআর-২০০৮) সম্পূর্ণ লঙ্ঘন করে দরপত্র মূল্যায়ন এবং পাইপ ও ফিটিং প্রকল্পের ৪ কোটি ১ লাখ টাকার কোনো গ্রহণযোগ্য বিল-ভাউচার দেখাতে না পারা বিএমডিএর চরম আর্থিক স্বেচ্ছাচারিতাকেই নির্দেশ করে। বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম খান জানিয়েছেন যে নিরীক্ষায় উঠে আসা অভিযোগ ও আপত্তিগুলো বর্তমানে পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে কিছু ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক জবাব দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক সর্বস্তরে দুর্নীতির এই মহোৎসব ও আর্থিক ক্ষতি সত্ত্বেও এ পর্যন্ত কেবল একজন সহকারী মেকানিককে সাময়িক বরখাস্ত করা ছাড়া দায়ী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
মন্তব্য করুন