দখলদার ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলে ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের নজিরবিহীন হামলার আজ তিন বছর পূর্ণ হলো। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ভোরে হামাসের যোদ্ধারা ইসরাইলের সুরক্ষিত সীমান্ত দেয়াল ও নজরদারি ব্যবস্থা ভেঙে দেশটির বিভিন্ন গ্রাম, সামরিক চৌকি এবং নোভা মিউজিক উৎসবে একযোগে আক্রমণ চালিয়ে বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিয়েছিলেন। দীর্ঘ তিন বছর আগে ঘটা সেই ভয়ংকর হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ নিহত এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়েছিল, যার পরিণতিতে গাজায় শুরু হয় এক ধ্বংসাত্মক ও দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ।
ভয়াবহ এই হামলার তৃতীয় বার্ষিকীতে আজ বুধবার ইসরাইলজুড়ে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সেদিন ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর ভেতরে ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়ে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য ও বিশ্লেষণ সামনে এসেছে। বিশেষ করে গাজার সীমান্ত থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ‘নাহাল ওজ’ সামরিক ঘাঁটিতে সেদিন যা ঘটেছিল, তা ইসরাইলি সামরিক সক্ষমতার চরম ব্যর্থতার চিত্র ফুটিয়ে তোলে। ওই ঘাঁটিতে হামাসের অতর্কিত হামলায় ৬০ জন সেনাসদস্য নিহত হন এবং বাকিদের জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়।
তদন্ত ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, হামলার কিছুদিন আগে থেকেই ওই এলাকার সীমান্তে হামাসের অস্বাভাবিক তৎপরতা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ঘটনার দিন ভোরে সীমান্ত পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা নারী সেনাসদস্যরা (যাঁরা ‘তাৎজপিতানিয়ত’ শাখা নামে পরিচিত) রকেট হামলার দৃশ্য দেখতে পেলেও শুরুতে একে প্রাত্যহিক ঘটনার অংশ বলেই মনে করেছিলেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে রকেট বর্ষণ এবং সীমান্ত প্রাচীরের প্রায় ৭০টিরও বেশি স্থান ভেঙে তিন হাজারেরও বেশি হামাস যোদ্ধার দলবদ্ধ অনুপ্রবেশ ইসরাইলি বাহিনীকে পুরোপুরি অপ্রস্তুত করে ফেলে।
হামলার সময় নাহাল ওজ ঘাঁটির অনেক সেনা সম্পূর্ণ নিরস্ত্র ছিলেন এবং দাপ্তরিক নিয়ম ও নিরাপত্তা প্রটোকলের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে আক্রমণ মোকাবিলার বদলে অনেককে পিছু হটার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। এই সুযোগটিই পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছিল হামাস যোদ্ধারা। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ক্যামেরাগুলো দ্রুত অকার্যকর করে দিয়ে তারা ঘাঁটির যুদ্ধকক্ষ ও বোম্ব শেল্টারে প্রবেশ করে। ওইদিনের সেই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নাহাল ওজের কমান্ড রুমের দায়িত্বে থাকা নারী সেনাসদস্যদের প্রায় সবাই নিহত হন কিংবা বন্দি হন, যাদের মধ্যে কেবল ভাগ্যক্রমে বেঁচে ফিরতে পেরেছিলেন শ্যারন নামের এক নারী সেনা।
ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের সংঘাতের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া ৭ অক্টোবরের এই ঘটনা আজও মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি এবং ভূকৌশলগত সমীকরণকে গভীরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে চলেছে। ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর গোয়েন্দা ও প্রস্তুতিগত ব্যর্থতার এই ক্ষতচিহ্ন আজও বহন করে চলেছেন নিহত ও জিম্মি পরিবারগুলোর সদস্যরা।
মন্তব্য করুন