|
দ্রুত লিংক
বিভাগসমূহ
মিডিয়া বিভাগ
Dhaka Files
প্রকাশ : Oct 7, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

ইসরাইলে হামাসের নজিরবিহীন হামলার ৩ বছর: সেদিন আসলে কী ঘটেছিল?

দখলদার ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলে ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের নজিরবিহীন হামলার আজ তিন বছর পূর্ণ হলো। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ভোরে হামাসের যোদ্ধারা ইসরাইলের সুরক্ষিত সীমান্ত দেয়াল ও নজরদারি ব্যবস্থা ভেঙে দেশটির বিভিন্ন গ্রাম, সামরিক চৌকি এবং নোভা মিউজিক উৎসবে একযোগে আক্রমণ চালিয়ে বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিয়েছিলেন। দীর্ঘ তিন বছর আগে ঘটা সেই ভয়ংকর হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ নিহত এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়েছিল, যার পরিণতিতে গাজায় শুরু হয় এক ধ্বংসাত্মক ও দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ।

ভয়াবহ এই হামলার তৃতীয় বার্ষিকীতে আজ বুধবার ইসরাইলজুড়ে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সেদিন ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর ভেতরে ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়ে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য ও বিশ্লেষণ সামনে এসেছে। বিশেষ করে গাজার সীমান্ত থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ‘নাহাল ওজ’ সামরিক ঘাঁটিতে সেদিন যা ঘটেছিল, তা ইসরাইলি সামরিক সক্ষমতার চরম ব্যর্থতার চিত্র ফুটিয়ে তোলে। ওই ঘাঁটিতে হামাসের অতর্কিত হামলায় ৬০ জন সেনাসদস্য নিহত হন এবং বাকিদের জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়।

তদন্ত ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, হামলার কিছুদিন আগে থেকেই ওই এলাকার সীমান্তে হামাসের অস্বাভাবিক তৎপরতা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ঘটনার দিন ভোরে সীমান্ত পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা নারী সেনাসদস্যরা (যাঁরা ‘তাৎজপিতানিয়ত’ শাখা নামে পরিচিত) রকেট হামলার দৃশ্য দেখতে পেলেও শুরুতে একে প্রাত্যহিক ঘটনার অংশ বলেই মনে করেছিলেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে রকেট বর্ষণ এবং সীমান্ত প্রাচীরের প্রায় ৭০টিরও বেশি স্থান ভেঙে তিন হাজারেরও বেশি হামাস যোদ্ধার দলবদ্ধ অনুপ্রবেশ ইসরাইলি বাহিনীকে পুরোপুরি অপ্রস্তুত করে ফেলে।

হামলার সময় নাহাল ওজ ঘাঁটির অনেক সেনা সম্পূর্ণ নিরস্ত্র ছিলেন এবং দাপ্তরিক নিয়ম ও নিরাপত্তা প্রটোকলের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে আক্রমণ মোকাবিলার বদলে অনেককে পিছু হটার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। এই সুযোগটিই পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছিল হামাস যোদ্ধারা। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ক্যামেরাগুলো দ্রুত অকার্যকর করে দিয়ে তারা ঘাঁটির যুদ্ধকক্ষ ও বোম্ব শেল্টারে প্রবেশ করে। ওইদিনের সেই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নাহাল ওজের কমান্ড রুমের দায়িত্বে থাকা নারী সেনাসদস্যদের প্রায় সবাই নিহত হন কিংবা বন্দি হন, যাদের মধ্যে কেবল ভাগ্যক্রমে বেঁচে ফিরতে পেরেছিলেন শ্যারন নামের এক নারী সেনা।

ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের সংঘাতের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া ৭ অক্টোবরের এই ঘটনা আজও মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি এবং ভূকৌশলগত সমীকরণকে গভীরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে চলেছে। ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর গোয়েন্দা ও প্রস্তুতিগত ব্যর্থতার এই ক্ষতচিহ্ন আজও বহন করে চলেছেন নিহত ও জিম্মি পরিবারগুলোর সদস্যরা।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সরকারি ভাতার ১৭০৯ কোটি টাকা লোপাট, নেপথ্যে নগদের সাবেক এমডি

1

আর্থিক সংকটের চাপে নবম পে স্কেলে কাটছাঁট, কোন কোন খাতে প্রভা

2

মানের সঙ্গে আপস না করে মাছ উৎপাদন বাড়ানোর তাগিদ কৃষিমন্ত্রীর

3

১১ জেলায় ঝড়ের আভাস, নদীবন্দরে সতর্কবার্তা

4

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বরণ ও প্রস্তুতি ২০২৬

5

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা সম্পূর্ণ অর্থহীন

6

চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে চায় বিএনপি: মির্জা ফখ

7

খেলোয়াড় সংকটে প্রেস্টনের বিপক্ষে বার্সেলোনার প্রীতি ম্যাচ বা

8

এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল ৩ বছর বাড়ানোর আহ্বান বাণিজ্যমন্

9

একটি বল, কোটি মানুষের বিশ্বাস: ফুটবলের ঐন্দ্রজালিক ক্ষমতা

10

ক্যানসার চিকিৎসায় কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও করণীয়:

11

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ছাতার নিচে সব ভর্তি আনার উদ্যোগ শিক

12

রেফারি নিয়ে অহেতুক বিতর্ক তৈরি করছে গণমাধ্যম: লিসান্দ্রো মার

13

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও তফশিল সংক্রান্ত আইনি আপডেট জানতে পোর্ট

14

সংঘাতের আগেই হরমুজ পার হলো ১৫ জাহাজ: স্বস্তিতে চট্টগ্রাম বন্

15

ন্যাম ভবনের বারান্দায় ঘুমাতে হতো এমপির দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম

16

হরমুজ প্রণালীতে দুটি তেলবাহী জাহাজে ইরানের হামলা ও উত্তেজনার

17

GLM-5.3: চীনা ল্যাবগুলো যেভাবে ফ্রন্টিয়ার এআই প্রযুক্তির সাথ

18

গুগল ম্যাপসে যুক্ত হচ্ছে জেমিনি ভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার

19

হরমুজ প্রণালি খোলার সম্ভাবনায় সাত সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ স্

20