ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক হামলা চালানোর চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব। মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই বিশাল সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো লোহিত সাগরের উপকূলীয় কৌশলগত এলাকাগুলো থেকে হুথি যোদ্ধাদের সম্পূর্ণভাবে হটিয়ে দেওয়া এবং একই সঙ্গে সব ফ্রন্টে একসঙ্গে আক্রমণ পরিচালনা করা।
রিয়াদভিত্তিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই অভিযানের মূল স্থলভাগে নেতৃত্ব দেবে সৌদি আরব-পরিচালিত ইয়েমেনি স্থল বাহিনী, যেখানে প্রায় এক লাখ সেনার অংশগ্রহণ করার কথা রয়েছে। অন্যদিকে, আকাশপথে সহায়তা ও প্রধান বিমান হামলা পরিচালনা করবে স্বয়ং সৌদি বিমান বাহিনী। আঞ্চলিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে এই অভিযানে রিয়াদকে গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করছে। এছাড়া বিভিন্ন আরব ও ইউরোপীয় দেশের পক্ষ থেকেও রক্ষণাত্মক সামরিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে, যদিও সৌদির কোনো মিত্র দেশ সরাসরি এই যুদ্ধে সৈন্য পাঠাবে না।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সাল থেকেই ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ নিরসনে হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে আসছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে তা ভেঙে পড়ে। সম্প্রতি সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি বিমান হামলার জবাবে হুথিরা লোহিত সাগর ও বাব এল মান্দেব প্রণালীতে সৌদির বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালায় এবং গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা দখল করে নেয়। হুথিদের এই আগ্রাসন ও বাণিজ্য পথ বন্ধের হুমকির পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের এই নতুন ও বৃহত্তর সামরিক উদ্যোগ লোহিত সাগর অঞ্চলের ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন