২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে আইভরি কোস্টকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে এক অবিশ্বাস্য রূপকথার জন্ম দিয়েছে নরওয়ে। নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের এই প্রথম নকআউট জয়টি ছিল নরওয়েজিয়ানদের জন্য দীর্ঘ কয়েক দশকের অপেক্ষার অবসান। জয় নিশ্চিত হওয়ার পরপরই নরওয়ের ড্রেসিংরুম হয়ে ওঠে উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু। তবে উৎসবের আবহেও যেন ড্রেসিংরুম কাঁপিয়ে উঠল এক সাহসী হুংকারে। নরওয়ের প্রধান কোচ স্তালে সোলবাকেন ড্রেসিংরুমে দলের উদ্দেশ্যে আবেগঘন বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে সরাসরি ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে উদ্দেশ্য করে ইংরেজিতে চিৎকার করে বললেন, ‘কার্লো আনচেলত্তি, আমরা আসছি!’ কোচের এই সাহসী ও মজার ঘোষণায় পুরো দল উল্লাসে ফেটে পড়ে।
ম্যাচটি ছিল নরওয়ের জন্য অগ্নিপরীক্ষা। শুরুতে আইভরি কোস্টের নিকোলাস পেপের একের পর এক আক্রমণে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল তারা। তবে ম্যাচের ৩৯ মিনিটে ওডেগার্ডের পাস থেকে তরুণ তুর্কি আন্তোনিও নুসার গোলটি নরওয়েকে নতুন প্রাণ দেয়। এই গোলটি করে নুসা নরওয়ের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হিসেবে ইতিহাস গড়েন। যদিও দ্বিতীয়ার্ধে আমাদ দিয়ালো গোল করে আইভরি কোস্টকে সমতায় ফিরিয়েছিলেন, কিন্তু শেষ হাসি হেসেছেন নরওয়েই। ৮৬ মিনিটে অস্কার বব এবং প্যাট্রিক বার্গের সমন্বয়ে আসা বল থেকে আর্লিং হালান্ড গোল করে নরওয়ের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেন। এই গোলটি হালান্ডের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ৬০তম গোল হিসেবেও মাইলফলক হয়ে রইল।
হালান্ড নিজেও এই জয়ের পর নিজের উচ্ছ্বাস গোপন করেননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, এমন একটি দিন যা তারা কোনোদিন ভুলবেন না। আইভরি কোস্টকে বিদায় করে এখন নরওয়ের সামনে পরবর্তী মিশন পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। জাপানকে হারিয়ে সেলেসাওরাও কোয়ার্টার ফাইনালে নিজেদের অবস্থান পাকা করেছে। আগামী সোমবার ৬ জুলাই অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচটি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে অন্যতম হাইভোল্টেজ লড়াই হতে যাচ্ছে। নরওয়ে তাদের ড্রেসিংরুমে যে আত্মবিশ্বাস ও হুংকার নিয়ে এই লড়াইয়ে নামছে, তা নিঃসন্দেহে ফুটবল বিশ্বকে একটি রোমাঞ্চকর রাতের আভাস দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, স্তালে সোলবাকেনের এই হুংকার মাঠের লড়াইয়ে ব্রাজিলকে কতটা চাপে ফেলতে পারে।
মন্তব্য করুন