ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত ২২৪ কিলোমিটার মহাসড়কের ওপর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণসহ দেশের সাতটি প্রধান মহাসড়ক চার থেকে ছয় লেনে উন্নীত করার মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার।
দেশের অর্থনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক করিডরকে বদলে দিতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত প্রায় ২২৪ কিলোমিটার মহাসড়কের ওপর দিয়ে একটি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের দীর্ঘমেয়াদি চিন্তাভাবনা শুরু করেছে সরকার। পাশাপাশি দেশের সাতটি প্রধান মহাসড়ক চার থেকে ছয় লেনে উন্নীত করা এবং জেলা মহাসড়কগুলোর প্রশস্ততা বাড়িয়ে ১৮ থেকে ২৪ ফুট (প্রয়োজনে ৩৪ ফুট পর্যন্ত) করার বড় ধরনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ২০২৯ সালের জুনের মধ্যে এসব উন্নয়নকাজের বড় অংশ বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে দেশের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে এই সিদ্ধান্ত হয়। প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-১ ও সমন্বয় সেলের সদস্য সচিব মো. উজ্জল হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিতে এসব সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নে সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মেগা প্রকল্পে অর্থায়নের চাপ কমাতে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) ও বৈদেশিক সহায়তার ওপর জোর দেওয়া হলেও জেলা ও আঞ্চলিক সড়কগুলোর উন্নয়ন সরকারি অর্থায়নেই (জিওবি) সম্পন্ন করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই অগ্রাধিকার পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডর, যার ওপর দেশের আমদানি-রপ্তানি ও বন্দরকেন্দ্রিক অর্থনীতির বড় অংশ নির্ভরশীল। ক্রমবর্ধমান যানবাহনের চাপ সামাল দিতে এই পুরো রুটটিকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে রূপান্তরের পাশাপাশি मौजूदा লেনগুলো সচল রাখতে নিয়মিত সংস্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নরসিংদীর ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতার মতো সমস্যাগুলো দ্রুত নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে দেশের সামগ্রিক যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোতে এক বিশাল পরিবর্তন আসবে।