সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস কমপ্লেক্সের ভেতরে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা বা সিআইএ-এর স্টেশনে এক ভয়াবহ ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। রয়টার্সের বরাত দিয়ে জানা গেছে যে, সোমবার একটি ইরানি ড্রোন সরাসরি ওই স্টেশনে আঘাত হানে এবং সেখানে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে। যদিও সিআইএ এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হয়নি, তবে সূত্রের খবর অনুযায়ী ড্রোনটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতেই আঘাত হেনেছে। গত শনিবার ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ আকাশ অভিযানের পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন ও ইসরায়েলি স্থাপনাগুলোতে ইরান যে পাল্টা হামলা শুরু করেছে, এটি তারই একটি অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।
একই সময়ে কাতারের নিরাপত্তা বাহিনী এক বিশেষ অভিযানে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সঙ্গে যুক্ত দুটি ‘স্লিপার সেল’ বা গুপ্তচর চক্রকে শনাক্ত করে এর সদস্যদের গ্রেপ্তার করেছে। কাতার নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, এই দুই চক্রের মোট ১০ জন সদস্যকে আটক করা হয়েছে, যারা কাতারের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনার তথ্য সংগ্রহ এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের ছক কষছিল। জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছে যে, তারা সরাসরি আইআরজিসি-র নির্দেশনা অনুযায়ী কাতারে অস্থিরতা তৈরির মিশনে নিয়োজিত ছিল। তাদের কাছ থেকে স্পর্শকাতর স্থাপনার ম্যাপ, স্থানাঙ্ক এবং উন্নত যোগাযোগ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই পাল্টাপাল্টি হামলা ও গুপ্তচরবৃত্তির ঘটনাগুলো পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে এক চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। সৌদি আরবে সিআইএ স্টেশনে ড্রোন হামলা এবং কাতারে ইরানি গুপ্তচর ধরা পড়ার এই ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে, যুদ্ধ এখন কেবল সম্মুখ সমরে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা গোয়েন্দা তৎপরতা ও নাশকতার স্তরেও পৌঁছে গেছে। বিশেষ করে রিয়াদের মতো সুরক্ষিত এলাকায় মার্কিন দূতাবাসে সরাসরি হামলার ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে, যা আগামীতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন