জামালপুরের মাদারগঞ্জে বাম্পার ফলন হলেও কাঁচা মরিচের দাম পতনে চরম হতাশায় পড়েছেন কৃষকরা। বর্তমানে স্থানীয় হাটবাজারে পাইকারিতে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ১৫ থেকে ১৭ টাকা (মণপ্রতি ৬০০ টাকা) দরে বিক্রি হচ্ছে, যা দিয়ে উৎপাদন খরচই উঠছের না। অথচ খুচরা বাজারে তা ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় কাঁচা মরিচের বাম্পার ফলন হলেও ন্যায্য দাম না পেয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। উৎপাদিত মরিচের দাম এতই কমে গেছে যে, জমি থেকে ফসল তুলে বাজারে নেওয়ার খরচই উঠছে না অনেকের।
উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে বর্তমানে কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ মাত্র ১৫ থেকে ১৭ টাকা দরে কেনা হচ্ছে, যা হিসাব করলে মণপ্রতি দাঁড়ায় মাত্র ৬০০ টাকা। অথচ একই উপজেলার খুচরা বাজারে এই মরিচই প্রতি কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এমনকি এখান থেকে ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রামের পাইকারি আড়তগুলোতে এই মরিচ ৯০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
মাদারগঞ্জের বালিজুড়ি ইউনিয়নের চর শুভগাছা গ্রামের মরিচচাষি শিপন জানান, এ বছর সার, কীটনাশক ও সেচসহ কৃষি উপকরণের দাম অনেক বেশি থাকায় প্রতি বিঘা জমিতে মরিচ চাষে প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বর্তমান বাজারদরে মরিচ বিক্রি করলে সেই খরচের অর্ধেকও উঠবে না, ফলে কৃষকদের বড় ধরনের আর্থিক লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে।
একই গ্রামের আরেক চাষি রাসেল খান জানান, গত শুক্রবার (৬ নভেম্বর) উপজেলার সবচেয়ে বড় কাঁচা মরিচের হাট গাবেরগ্রাম হাটে পাইকারি বাজারে মাত্র ১৫ টাকা কেজি দরে মরিচ বিক্রি হয়েছে। শুরুর দিকে কিছু দাম মিললেও এখন পাইকারিতে দাম একেবারেই পড়ে গেছে।
জোড়খালী ইউনিয়নের চাষি আব্দুল খালেক পলিমালচিং পদ্ধতিতে তিন বিঘা জমিতে উচ্চ ফলনশীল ‘ময়নামতি’ জাতের মরিচ চাষ করেছিলেন। তিনি জানান, জমি তৈরি, বীজ, সার, সেচ, শ্রমিক ও যাতায়াত খরচ মেটাতে গিয়ে তাকে হিমশিম খেতে হয়েছে। এর সঙ্গে সারের বাড়তি সংকট ও ভোগান্তি তো ছিলই। বাজারে বর্তমান দাম অব্যাহত থাকলে তাকে বড় অংকের লোকসান গুনতে হবে।
এদিকে মাদারগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৭৫০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও কৃষকদের আগ্রহে তা ছাড়িয়ে ১ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে শুধু আগাম জাতের মরিচ চাষ হয়েছে ৩০০ হেক্টর এবং পলিমালচিং পদ্ধতিতে চাষ হয়েছে ২৫ হেক্টর জমিতে। এ ছাড়াও ময়নামতি, গ্রিন সুপার, নাগা ফায়ার, বিজলি ও গ্রিন স্টারের মতো উন্নত জাতের মরিচ বেশি আবাদ হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. হাবিবুর রহমান জানান, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত জমিতে আবাদ হওয়ায় এবার মাদারগঞ্জে কাঁচা মরিচের মোট উৎপাদন ৪২ হাজার মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যেতে পারে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব মরিচ ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও নারায়ণগঞ্জের মতো বড় বড় শহরে সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া চাষিদের উৎসাহিত করতে দুই শতাধিক কৃষককে সরকারি প্রণোদনা এবং কারিগরি সহায়তা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
কৃষকদের মতে, উৎপাদন বাড়লেও সঠিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও বাজার মনিটরিংয়ের অভাবে ফড়িয়া ও middlemen-দের সিন্ডিকেটের কারণে উৎপাদকরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
(পুনশ্চ: মূল সংবাদের তথ্য অনুযায়ী মাদারগঞ্জে কাঁচা মরিচের দরপতন ও কৃষকদের হতাশার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।)