হ্যালির ধূমকেতুর রেখে যাওয়া ধুলিকণা থেকে তৈরি ওরিয়নিডস উল্কাবৃষ্টি এখন তুঙ্গে। আজ মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত বাংলাদেশের আকাশেও ঘণ্টায় ১০ থেকে ২০টি উল্কা দেখা যেতে পারে।
আজ রাতে আকাশের দিকে তাকালে দেখা যেতে পারে উল্কার ঝরনা। বার্ষিক ওরিয়নিডস উল্কাবৃষ্টি এখন তার তুঙ্গ সময় পার করছে। জ্যোতির্বিদদের হিসাবে, ২১ ও ২২ অক্টোবরের রাতেই এই উল্কাবৃষ্টি সবচেয়ে ভালো দেখা যাওয়ার কথা।
বিখ্যাত হ্যালির ধূমকেতুর রেখে যাওয়া ধুলো ও ধ্বংসাবশেষের মধ্য দিয়ে পৃথিবী অতিক্রম করার সময় এই উল্কাবৃষ্টি হয়। ধুলিকণাগুলো ঘণ্টায় প্রায় ৬৬ কিলোমিটার বেগে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে জ্বলে ওঠে। উল্কাগুলো আকাশের ওরিয়ন বা কালপুরুষ নক্ষত্রমণ্ডলের দিক থেকে ছুটে আসতে দেখা যায় বলেই এই নাম।
আদর্শ অন্ধকার আকাশে তুঙ্গ সময়ে ঘণ্টায় ১০ থেকে ২০টি উল্কা দেখা যেতে পারে। তবে এবার উজ্জ্বল চাঁদ কিছুটা বাদ সাধতে পারে। সন্ধ্যার পর থেকে মাঝরাত পর্যন্ত চাঁদের আলোয় ক্ষীণ উল্কাগুলো ঢাকা পড়তে পারে।
ভালো খবর হলো, ভোরের কয়েক ঘণ্টা আগে চাঁদ ডুবে যাবে। তখন থেকে ভোর পর্যন্ত সময়টাই দেখার জন্য সবচেয়ে ভালো। বাংলাদেশের দর্শনার্থীদের জন্য মধ্যরাতের পর থেকে ফজরের আগ পর্যন্ত সময়টা উপযুক্ত।
উল্কা দেখতে কোনো টেলিস্কোপ বা বিশেষ যন্ত্রের দরকার নেই, খালি চোখেই যথেষ্ট। শহরের আলো থেকে দূরে অন্ধকার জায়গায় গেলে বেশি উল্কা দেখা যাবে। চোখ অন্ধকারে অভ্যস্ত হতে ২০ থেকে ৩০ মিনিট সময় দিতে হবে। আকাশের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে ওরিয়ন নক্ষত্রমণ্ডল উঁচুতে উঠলেও উল্কা আকাশের যেকোনো জায়গায় দেখা যেতে পারে।
ওরিয়নিডস উল্কাবৃষ্টি সক্রিয় থাকবে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত। তবে তুঙ্গ সময় পার হয়ে গেলে উল্কার সংখ্যা ধীরে ধীরে কমে আসবে। তাই আজ রাতের সুযোগটাই সবচেয়ে ভালো।