রাঙামাটির সাজেকে সড়ক অবরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। সেনাবাহিনী ও পুলিশের পাহারায় প্রায় ৩ হাজার পর্যটককে নিরাপদে খাগড়াছড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) উত্তেজনা ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় সাজেকে আটকা পড়া প্রায় ৩ হাজার পর্যটককে সেনাবাহিনী ও পুলিশের পাহারায় নিরাপদে খাগড়াছড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
তিন দফা দাবিতে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে এই অবরোধের ডাক দেয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে সাজেক থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সশস্ত্র সদস্যদের অপসারণ। একই দাবিতে এর আগে ১১ অক্টোবর প্রথম দফা ও ১৫ অক্টোবর থেকে দ্বিতীয় দফা অবরোধ পালিত হয়।
বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা থেকে অবরোধ শুরু হলে বিভিন্ন পয়েন্টে টায়ার জ্বালিয়ে দীঘিনালা থেকে সাজেকমুখী সব যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সেনা ও পুলিশের পাহারায় পর্যটকদের কনভয় সাজেক থেকে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে রওনা হয়।
সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সাজেক ইউনিয়নের উজোবাজার এলাকায় কনভয়টি আটকে দেওয়া হয়। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, অবরোধকারীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে নিরাপত্তা বাহিনী লাঠিচার্জ করে কনভয় এগিয়ে নেয়। বেলা ১১টার দিকে সশস্ত্র ব্যক্তিরা গুলি চালালে সেনা টহলদল আত্মরক্ষায় পাল্টা গুলি চালায়।
রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আবদুর রকিব জানান, উজোবাজার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র দলের গোলাগুলি হয়। সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন জানান, মোট ২ হাজার ৯৩৩ জন পর্যটককে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
আইএসপিআর জানায়, এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে ইটপাটকেলে কয়েকজন পর্যটক আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যদিও তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফি বুধবার সন্ধ্যায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেন। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার মধ্যে সবাইকে নিরাপদে সাজেক ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।