পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সমান অধিকার এবং জাতীয় স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে বৈশ্বিক সম্পর্ক জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পররাষ্ট্রনীতির মূল লক্ষ্য হবে দেশের স্বার্থ রক্ষা ও অর্থনৈতিক সুযোগের প্রসার ঘটানো এবং এর পাশাপাশি নিজস্ব কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন অক্ষুণ্ণ রাখা।
সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬’-এর সমাপনী দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করে।
বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে কূটনীতি, অর্থনীতি ও নিরাপত্তাকে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে দেখতে হবে এবং এগুলোকে আলাদা করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। বিশ্বজুড়ে ক্ষমতার দ্রুত পরিবর্তন, প্রযুক্তির প্রভাব এবং তীব্র অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতার এই যুগে বাংলাদেশকে কেবল পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিলেই চলবে না, বরং নিজেদের ভবিষ্যৎ গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। বঙ্গোপসাগর অঞ্চলকে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার একটি অনন্য হাব হিসেবে গড়ে তোলার ওপরও তিনি জোর দেন। দক্ষিণ এশিয়ায় বাণিজ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে আঞ্চলিক অংশীদারত্ব বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
রোহিঙ্গা সংকটকে দেশের অন্যতম প্রধান জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির শীর্ষ অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, আন্তর্জাতিক ও দ্বিপক্ষীয় উভয় পর্যায়ে সর্বোচ্চ কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই সংকট নিরসন করতে হবে। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা, সাইবার হুমকি এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তার মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলো একা মোকাবিলা করা সম্ভব নয় বিধায় সীমান্ত পেরিয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর তাগিদ দেন তিনি।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল চারটি ভিত্তির কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান জাতীয় স্বার্থ হবে পথপ্রদর্শক, কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন হবে শক্তির উৎস, বহুমুখী অংশীদারত্ব তৈরি করবে নতুন সুযোগ এবং শান্তিই থাকবে দেশের চূড়ান্ত লক্ষ্য।
মন্তব্য করুন