আমদানি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পাওয়ার পরও নানা অজুহাতে চট্টগ্রামের বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) চরম সংকট দেখা দিয়েছে। সরকারি নির্দেশনা ও নির্ধারিত মূল্যকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা ১২ কেজির সিলিন্ডারপ্রতি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত বেশি আদায় করছেন। এর ওপর গত রোববার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম আরও ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮১০ টাকা নির্ধারণ করায় সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ আরও বেড়ে গেছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম আট মাসেই দেশে প্রায় ১১ লাখ ২৮ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩৩ শতাংশ বেশি। তা সত্ত্বেও বন্দরনগরীর বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, বাকলিয়া, চান্দগাঁও ও লালখান বাজারের মতো জনবহুল এলাকায় গত এক সপ্তাহ ধরে ডিলার ও খুচরা দোকানে পর্যাপ্ত গ্যাস মিলছে না। গত মাসে ১২ কেজির সিলিন্ডারের সরকারি দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারিত থাকলেও বাজারে তা ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। বর্তমানে নতুন মূল্যবৃদ্ধির ফলে সাধারণ ক্রেতাদের পকেট থেকে আরও বেশি অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বাসাবাড়িতে প্রাকৃতিক গ্যাসের তীব্র সংকট ও পাইপলাইনের গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি থাকায় নগরবাসীর একটি বড় অংশ এখন পুরোপুরি এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর নির্ভরশীল। চাহিদার এই বাড়তি সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষুব্ধ ক্রেতারা। গ্রাহকদের অভিযোগ, প্রকাশ্যেই অতিরিক্ত দাম নেওয়া হলেও বাজার তদারকি সংস্থার কার্যকর নজরদারির অভাব রয়েছে। বিক্রেতারা ভাউচার ছাড়াই বেশি দামে গ্যাস কেনাবেচা করছেন, যার ফলে সাধারণ ভোক্তারা মারাত্মক আর্থিক ও মানসিক ভোগান্তিতে পড়ছেন।
বিক্রেতা ও ডিলারদের দাবি, কোম্পানি পর্যায় থেকে অতিরিক্ত দামে গ্যাস কিনতে বাধ্য হওয়ায় এবং যথাযথ ভাউচার না পাওয়ায় তাঁরাও কম দামে বিক্রি করতে পারছেন না। অন্যদিকে বিইআরসি দাবি করছে যে দেশে এলপিজির কোনো ঘাটতি নেই এবং আন্তর্জাতিক বাজার ও আমদানি ব্যয় বিবেচনা করেই যৌক্তিকভাবে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। এদিকে বাজার নিয়ন্ত্রণে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম কার্যালয় থেকে তদারকি ও অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং সিন্ডিকেটের কারসাজি রোধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী নগরবাসী।
মন্তব্য করুন