দেশের সামগ্রিক ‘জাতীয় প্রতিরক্ষা’ প্রস্তুতি আরও জোরদার করার লক্ষ্যে স্বেচ্ছাসেবী বেসামরিক নাগরিকদের সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার একটি বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে ইরানের সেনাবাহিনী। পশ্চিম এশিয়া নিউজ এজেন্সির (ওয়ানা) তথ্য অনুযায়ী, ‘জানফাদা’ নামের এই অভিনব সামরিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি রাজধানী তেহরানের নির্বাচিত কয়েকটি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।
ইরানের সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা বিভাগের উপপ্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ রেজা আলিয়ান-নেজাদ জানিয়েছেন যে, এই কর্মসূচির আওতায় সেনাবাহিনীর চারটি প্রধান শাখার অভিজ্ঞ সদস্যদের নির্ধারিত ‘ফিল্ড-গ্যারিসন’ এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে। সেখানে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে অংশ নেওয়া সাধারণ নাগরিকদের প্রথমে প্রয়োজনীয় ‘মৌলিক সামরিক প্রশিক্ষণ’ প্রদান করা হচ্ছে এবং পরবর্তীতে তাদের জন্য আরও উন্নত ও আধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তেহরানের ইমাম হোসেইন স্কয়ারে প্রথম প্রশিক্ষণশিবির চালুর পর সম্প্রতি হাফতে তির স্কয়ারেও নতুন একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্রের উদ্বোধন করা হয়েছে এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে রাজধানীর আরও বিভিন্ন কেন্দ্রে এই কার্যক্রম বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত প্রশিক্ষণকেন্দ্রের বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে যে, সেনাসদস্যদের তত্ত্বাবধানে স্বেচ্ছাসেবকরা ছদ্মবেশী রঙ করা বিমানবিধ্বংসী সরঞ্জাম নিয়ে বিভিন্ন মহড়ায় অংশ নিচ্ছেন। এছাড়া দুর্গম বাধাবিঘ্ন অতিক্রম করার প্রশিক্ষণপথ পার হওয়া এবং নিখুঁতভাবে অস্ত্র ব্যবহারের অনুশীলনের ক্ষেত্রে আধুনিক ভার্চুয়াল রিয়েলিটি হেডসেটের ব্যবহারও লক্ষ্য করা গেছে। বাসিজ সংগঠনের প্রশিক্ষণ বিভাগের উপপ্রধান আলি কাওসারি এক সংবাদ সম্মেলনে জানান যে, এই প্রশিক্ষণের জন্য বর্তমানে ১ হাজার ব্যাটালিয়ন পুরোপুরি প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং সমাজের সর্বস্তরে বেসামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। শত্রুপক্ষ যদি ভবিষ্যতে কোনো ভুল হিসাব করে নতুন করে আগ্রাসন চালায়, তবে ইরানের ঐক্যবদ্ধ জনগণ তার উপযুক্ত জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন দেশটির সামরিক কর্মকর্তারা।
মন্তব্য করুন