
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা এক নতুন ও উদ্বেগজনক মোড় নিয়েছে। সম্প্রতি ইরানি বাহিনীর হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যন্ত আধুনিক ‘ই-৩ সেন্ট্রি’ রাডার বিমান ধ্বংস হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দশকের পর দশক ধরে মার্কিন সামরিক বাহিনীর নজরদারির প্রধান স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত এই বিমানটি ধ্বংস হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে দেশটির পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা বড় ধরনের সংকটে পড়েছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।
এই রাডার বিমানগুলো আকাশ থেকে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার বর্গমাইল এলাকা জুড়ে নজরদারি চালাতে সক্ষম, যা মার্কিন বাহিনীর জন্য এক প্রকার ‘আকাশের চোখ’ হিসেবে কাজ করত। এর মাধ্যমে যেকোনো শত্রুবিমান বা ক্ষেপণাস্ত্রের গতিবিধি মুহূর্তের মধ্যেই শনাক্ত করা সম্ভব হতো। বিমানটি ধ্বংস হওয়ার ফলে এখন বিশাল এক অঞ্চল জুড়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর দৃষ্টি অনেকটা ঝাপসা হয়ে পড়েছে, যা তাদের যুদ্ধকালীন কৌশল ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে বড় ধরনের অন্তরায় সৃষ্টি করতে পারে।
পুরো বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। একদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন যুক্তরাষ্ট্র যখন কঠোর সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিচ্ছে, অন্যদিকে ইরানের এই পাল্টা আঘাত বুঝিয়ে দিচ্ছে যে তারা যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত। নজরদারি ব্যবস্থার এই বড় ধরনের ক্ষতি দীর্ঘমেয়াদে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্য ও তাদের মিত্রদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জের জন্ম দিল।