
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অভ্যন্তরে পদত্যাগের ঘটনা এখন এক বিশাল সংকটে রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আসন সমঝোতার সিদ্ধান্তটি দলের তৃণমূল ও মধ্যম সারির নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি করেছে। আদর্শিক বিচ্যুতি ও রাজনৈতিক কৌশলের ভুল আখ্যা দিয়ে কেন্দ্র থেকে শুরু করে জেলা-উপজেলা পর্যায়ের অসংখ্য প্রভাবশালী নেতা দল ত্যাগ করছেন।
ইতোমধ্যেই এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা, মীর আরশাদুল হক, এবং যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ ও তাজনূভা জাবীনসহ অনেক কেন্দ্রীয় নেতা পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগকারী নেতাদের একটি বড় অংশ বিএনপি ও জামায়াতে যোগ দিচ্ছেন, আবার কেউ কেউ নতুন প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হচ্ছেন। খাগড়াছড়িতে তিন শতাধিক নেতাকর্মী একযোগে বিএনপিতে এবং নীলফামারীতে বেশ কয়েকজন নেতা জামায়াতে যোগ দিয়েছেন। এছাড়া রংপুর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কমিটিতেও ভাঙন দেখা দিয়েছে, যেখানে জুলাই আন্দোলনের বাইরের ব্যক্তিদের নেতৃত্বে আনার অভিযোগ উঠেছে।
এই বিপর্যয় কাটাতে এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্ব পদত্যাগীদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে। কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আখতার হোসেন এবং যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার জানিয়েছেন, পদত্যাগকারী নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে এবং তাদের জন্য দলের দরজা সবসময় খোলা রয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ের চিত্র বলছে, অধিকাংশ নেতা তাদের সিদ্ধান্তে অনড় এবং দলের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে একমত হতে পারছেন না।