
ফরিদপুরের নগরকান্দায় মক্তবের এক ছেলেশিশুকে জোরপূর্বক বলাৎকারের চেষ্টার অপরাধে আরিফুল ইসলাম নামের এক খণ্ডকালীন ইমাম ও মক্তব শিক্ষককে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুরে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এবং জেলা ও দায়রা জজ শামীমা পারভীন এই রায়ের আদেশ প্রদান করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। পরে রায়ের প্রক্রিয়া শেষে তাকে কঠোর পুলিশ পাহারায় জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, দণ্ডপ্রাপ্ত আরিফুল ইসলাম নগরকান্দা উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের দয়ারামপুর এলাকার একটি স্থানীয় মসজিদে খণ্ডকালীন ইমাম ও মক্তবের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। তিনি নিয়মিত মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি সকালে শিশু শিক্ষার্থীদের আরবি শিক্ষা দিতেন।
ঘটনার বিবরণী অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ অক্টোবর সকালে প্রবল বৃষ্টির কারণে অন্য কোনো শিশু শিক্ষার্থী মক্তবে আসতে পারেনি। এই সুযোগে একা পড়তে আসা ভুক্তভোগী শিশুটিকে আরিফুল ইসলাম নিজের শোবার কক্ষে ডেকে নেন এবং তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে পোশাক খুলতে বাধ্য করেন। একপর্যায়ে শিশুটিকে জোরপূর্বক বলাৎকারের অপচেষ্টা চালান তিনি। কৌশলে পানি খাওয়ার কথা বলে কক্ষের বাইরে বেরিয়ে শিশুটি দ্রুত বাড়ি ফিরে পরিবারের সদস্যদের কাছে পুরো ঘটনাটি বিস্তারিত প্রকাশ করে।
ঘটনা জানার পর পরই ভুক্তভোগী শিশুর অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা একজোট হয়ে অভিযুক্ত আরিফুলকে আটক করে নগরকান্দা থানা পুলিশের হাতে সোপর্দ করেন। এই ঘটনায় একই দিনে শিশুটির অভিভাবক বাদী হয়ে নগরকান্দা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নগরকান্দা থানার এসআই শহিদুল ইসলাম তদন্ত কাজ শেষ করে আরিফুল ইসলামকে একমাত্র অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করে আদালতে চূড়ান্ত অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। দীর্ঘ সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণ ও শুনানি শেষে আদালত আজ এই ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেন।
আদালতের রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন জানান, দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আসামির উপস্থিতিতে বিচারক এই রায় দেন। এই ধরনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ফলে ভবিষ্যতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ জাতীয় ন্যক্কারজনক অপরাধ সংঘটিত করার মানসিকতা অনেকাংশে হ্রাস পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।