
ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন গতিময় পেসার হিসেবে নিজের অসাধারণ সামর্থ্যের জানান দিচ্ছেন ২৬ বছর বয়সি তরুণ পেসার গুরনুর ব্রার। আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ক্রিকেটে মাত্র ১১টি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েই ২১টি উইকেট শিকার করে রেকর্ড বইয়ের পাতায় নিজের নাম লিখিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে নিউজিল্যান্ডের কঠিন কন্ডিশনে দুর্দান্ত বোলিং পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে নির্বাচকদের মূল একাদশের আলোচনায় চলে এসেছেন এই তরুণ।
চলমান নিউজিল্যান্ড সিরিজে দারুণ ছন্দে থাকা গুরনুর সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচেই তুলে নিয়েছেন সাতটি উইকেট। ১০.৫৭ গড়ে এই মুহূর্তে সিরিজের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারিও তিনি। তাঁর গতি ও বাউন্সের সামনে বেশ কোণঠাসা হয়ে পড়েছে কিউই ব্যাটিং লাইনআপ। বিশেষ করে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ডিএলএস পদ্ধতিতে ভারতের চার রানের রোমাঞ্চকর জয়ে বল হাতে মূল ভূমিকা রাখেন গুরনুর। মাত্র ৩০ রান খরচ করে ৪ উইকেট শিকার করে তিনি নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ভারতীয় বোলারদের মধ্যে ওয়ানডেতে সেরা বোলিংয়ের তালিকায় কিংবদন্তি অনিল কুম্বলে ও জাভাগাল শ্রীনাথের ঠিক পরেই তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন।
অবশ্য গুরনুরের এই সাফল্যের পথটি একদম মসৃণ ছিল না। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শুরুতে নজর কাড়লেও মাঝের সময়টায় খরুচে বোলিংয়ের কারণে কিছুটা সমস্যায় পড়েছিলেন তিনি। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৭ উইকেট শিকারের পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচে পান ৪ উইকেট। এরপরে ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে বেশ কঠিন সময় পার করতে হয় তাঁকে; তিন ম্যাচে মাত্র ৩ উইকেট পাওয়ার পাশাপাশি গুয়াহাটি ও মুল্লানপুরে বেশ রান খরচ করেন। তবে সেই ব্যর্থতা ও সমালোচনা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিউজিল্যান্ড সফরে সম্পূর্ণ নতুন রূপে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন এই পেসার।
দুরূহ সময়েও টিম ম্যানেজমেন্ট ও সতীর্থদের পূর্ণ সমর্থন পেয়েছেন গুরনুর। বিশেষ করে প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর ও অধিনায়ক শুবমান গিলের অগাধ আস্থা তাকে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খরুচে বোলিংয়ের পর কোচ গম্ভীর তাঁকে নির্দিষ্ট লেংথ বজায় রেখে বোলিং করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। নিউজিল্যান্ড সফরেও একই মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে নিজের শক্তির জায়গায় আস্থা রেখে নির্ভয়ে বোলিং করে যাচ্ছেন তিনি, যা ভারতীয় দলের বোলিং আক্রমণকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে।