
ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত ও সমালোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনি মানেই নতুন বিতর্ক আর খবরের শিরোনাম। সম্প্রতি আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিক হেনস্তার ঘটনায় বিনোদন ও সংবাদ অঙ্গনে তাকে নিয়ে যখন ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে, ঠিক তখনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক স্ট্যাটাস দিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছেন তিনি।
রোববার (৮ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে সংবাদকর্মীদের ইঙ্গিত করে একটি কটাক্ষপূর্ণ স্ট্যাটাস দেন পরীমনি। সেখানে তিনি লেখেন, “এদের এ কেমন বয়কটের ধরন! বয়কট ঘোষণা করে আমারে ফ্রেন্ডলিস্টে রাইখা দিছে।” পোস্টটি করার পর মুহূর্তেই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। তবে নেটিজেনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার কিছুক্ষণ পরই স্ট্যাটাসটি নিজের প্রোফাইল থেকে মুছে ফেলেন তিনি। যদিও ততক্ষণে তার পোস্টটির স্ক্রিনশট অন্তর্জালে ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ৫ নভেম্বর। ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন পরীমনি। শুনানি শেষে আদালত ভবন থেকে বের হওয়ার সময় পরীমনির ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে উপস্থিত সাংবাদিকদের বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ‘ব্যাড টাচ’-এর অভিযোগ তুলে তাঁকে হেনস্তা করা এবং মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে পরীমনি ও তাঁর নিরাপত্তাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
এই অপ্রীতিকর ঘটনার পর দেশের বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন পরীমনির এই অসৌজন্যমূলক আচরণের তীব্র নিন্দা জানায়। মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (এমআরএ), এমআরইউ, ডিআরএফ ও ইউথ জার্নালসহ বিভিন্ন সংগঠন যৌথভাবে তাঁকে পেশাগতভাবে বয়কটের সিদ্ধান্ত ও ঘোষণা দেয়।
সাংবাদিকদের এই কঠোর অবস্থানের কারণে শোবিজ অঙ্গনেও তৈরি হয়েছে নেতিবাচক প্রভাব। এর জের ধরে চট্টগ্রামে আয়োজিত ‘চট্টগ্রাম ফ্যাশন ভ্যানগার্ড অ্যাওয়ার্ড’-এর বিশেষ অতিথি তালিকা থেকে পরীমনিকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর আগে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ওই অনুষ্ঠানের পোস্টার শেয়ার করে চট্টগ্রামে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সাংবাদিকদের তীব্র প্রতিবাদ ও বয়কটের মুখে আয়োজক কমিটি তাঁর নামটি তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলতে বাধ্য হয়।
এদিকে, সোশ্যাল মিডিয়ায় পুরো বিষয়টি নিয়ে দ্বিধা বিভক্ত প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। নেটিজেনদের একাংশের মতে, তারকাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি হলেও পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের সঙ্গে এমন আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। আবার অন্য একটি পক্ষ পরীমনির পাশে দাঁড়িয়ে ভিড়ের মধ্যে একজন নারীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করার দাবি তুলেছেন।