
দেশে মাদকদ্রব্যের অবৈধ অনুপ্রবেশ, পাচার, সরবরাহ ও ক্রমবর্ধমান বিস্তার রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে ১০ জন আইনজীবীর পক্ষ থেকে সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি এক আইনি নোটিশ (লিগ্যাল নোটিশ) পাঠানো হয়েছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির আইনজীবীদের পক্ষে এ লিগ্যাল নোটিশটি প্রেরণ করেন। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং সংবিধানের ১৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এই নোটিশ পাঠানো হয়।
নোটিশে দেশে মাদক সংক্রান্ত একাধিক উদ্বেগজনক তথ্য ও পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলা হয়:
প্রথমত, ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত সাড়ে পাঁচ বছরে উদ্ধার সংক্রান্ত ১ লাখ ২২ হাজার ৪২২টি মামলার মধ্যে মাত্র ১১ শতাংশ বা ১৩ হাজার ১৩৬টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। নিষ্পত্তি হওয়া এসব মামলার মধ্যে আবার ৫৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ আসামিই বেকসুর খালাস পেয়েছেন, যা তদন্তের গুণগত মান ও প্রসিকিউশনের চরম দুর্বলতাকে নির্দেশ করে।
দ্বিতীয়ত, শুধু ২০২৫ সালেই সীমান্ত এলাকা থেকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ১৪ কোটি ৭০ লাখের বেশি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে। এছাড়া ২০২৬ সালের এপ্রিলে নাফ নদীতে বিজিবির ইতিহাসে একদিনে রেকর্ড সর্বোচ্চ ১০ লাখ ৫৯ হাজার ৪০০টি ইয়াবা জব্দ করা হয়, যা দেশে মাদকের অনুপ্রবেশের ভয়াবহ চিত্র প্রকাশ করে।
তৃতীয়ত, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ ‘গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গল’, ‘গোল্ডেন ক্রিসেন্ট’ ও ‘গোল্ডেন ওয়েজ’-এর মতো আন্তর্জাতিক বিপজ্জনক মাদক রুটের ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক কোকেন পাচারের ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার আশঙ্কাও ব্যক্ত করা হয়।
এ প্রেক্ষাপটে নোটিশ পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে সুনির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— বিদ্যমান আইনের দুর্বলতা দূর করা; বিজিবি, কোস্ট গার্ড, পুলিশ, র্যাব, কাস্টমস ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মধ্যে সমন্বয়ে একটি স্থায়ী যৌথ গোয়েন্দা ও সমন্বয় কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা; অনলাইন প্ল্যাটফর্মে মাদক কেনাবেচা রুখতে বিশেষায়িত সাইবার মনিটরিং ইউনিট গঠন বা শক্তিশালীকরণ; মাদক মামলার উচ্চ হারে খালাসের কারণ চিহ্নিতকরণ ও বিচারিক দীর্ঘসূত্রতা নিরসনে সময়াবদ্ধ পরিকল্পনা নেওয়া; এবং মাদকাসক্তদের সঠিক চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সুব্যবস্থা করা।
নোটিশে সতর্ক করে বলা হয়, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এসব দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া হলে জনস্বার্থে হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত প্রতিকার চাওয়া হবে।