
ভারতের উত্তর প্রদেশের বৃন্দাবনে অবস্থিত ‘সেবাধাম আশ্রম’-এর আলোচিত ধর্মগুরু ইন্দ্রদেব মহারাজের বিরুদ্ধে এক নারী ভক্তকে দীর্ঘ দিন ধরে যৌন নির্যাতন, শ্লীলতাহানি এবং ভিডিও কলের মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইল করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় মহারাষ্ট্রের কাশিমিরা পুলিশ স্টেশনে একটি ‘জিরো এফআইআর’ (Zero FIR) নথিভুক্ত করা হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভুক্তভোগী নারী মহারাষ্ট্রের পুনে শহরের বাসিন্দা। আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী মামলাটি দ্রুত ঘটনাস্থল উত্তর প্রদেশের মথুরা পুলিশ স্টেশনে স্থানান্তরিত করা হবে।
অনলাইন পরিচয় থেকে আশ্রমে নির্যাতন: অভিযোগপত্রে ভুক্তভোগী নারী জানান, ২০২৩ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইন্দ্রদেব মহারাজের ধর্মীয় বয়ান শুনে অনুপ্রাণিত হয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরবর্তীতে মুম্বাইয়ের সান্টাক্রুজে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ইন্দ্রদেবের কাছ থেকে দীক্ষা নেন। ব্যক্তিগত সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওই ধর্মগুরু তাঁর আস্থা অর্জন করেন এবং পরবর্তীতে তাঁকে বৃন্দাবনের সেবাধাম আশ্রমে ডেকে পাঠান।
ভুক্তভোগী নারীর দাবি, আশ্রমে অবস্থানকালে গভীর রাতে ইন্দ্রদেব তাঁকে নিজ কক্ষে ডেকে পাঠিয়ে দরজা বন্ধ করে যৌন নির্যাতন চালাতেন। এ সময় কেউ জিজ্ঞাসাবাদ করলে ‘ওষুধ দিতে যাচ্ছেন’—এমন অজুহাত শেখাতে বলা হয়েছিল তাঁকে।
ভিডিও কলে ব্ল্যাকমেইল ও ধর্মীয় আড়ালে ভয়ভীতি: আশ্রম ত্যাগ করার পরও ভুক্তভোগী নারী এই নির্যাতন থেকে রেহাই পাননি। অভিযুক্ত ধর্মগুরু ফোন ও ভিডিও কলে তাঁকে বিভিন্ন অশ্লীল কর্মকাণ্ডে বাধ্য করতেন এবং গোপনে তা রেকর্ড করে রাখতেন। পরবর্তীতে অস্বীকৃতি জানালে ভিডিও ফাঁসের মাধ্যমে চরিত্রহননের হুমকি দেওয়া হতো। এমনকি ভুক্তভোগীকে দমানোর জন্য তিনি বলতেন, “আমি ঈশ্বর, আর আমার আজ্ঞা পালন করা তোমার বাধ্যবাধকতা।”
তদন্তে জিরো এফআইআর ও মানবাধিকারকর্মীদের প্রতিক্রিয়া: দীর্ঘদিন ধরে মথুরায় গিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন ভুক্তভোগী নারী। অবশেষে সামাজিক সংগঠন ‘ভূমাতা ব্রিগেড’-এর সভাপতি ও নারী অধিকার কর্মী তৃপ্তি দেশাইয়ের সহায়তায় মহারাষ্ট্রে জিরো এফআইআর নথিভুক্ত করতে সক্ষম হন তিনি।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তৃপ্তি দেশাই অভিযুক্ত ধর্মগুরুর দ্রুত গ্রেফতার ও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন। তিনি বলেন, “নারীদের ধর্মীয় বিশ্বাসকে পুঁজি করে যারা এ ধরনের অনৈতিক শোষণে লিপ্ত হয়, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা জরুরি।”