
সন্তানহীনতা দূর করা এবং ত্বকের রোগ সারানোর নামে গোবর, গোমূত্র ও কথিত প্রাচীন টোটকার ব্যবহার সংক্রান্ত পরামর্শ দিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন ভারতের জনপ্রিয় ধর্মীয় প্রবক্তা অনিরুদ্ধাচার্য জি মহারাজ। বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যম ও টেলিভিশনের সরাসরি বিতর্ক অনুষ্ঠানে তাঁর দেওয়া এসব অবৈজ্ঞানিক দাবি নিয়ে দেশটি জুড়ে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
অনিরুদ্ধাচার্যের সবচেয়ে বিতর্কিত দাবিটি হলো, দম্পতিদের সন্তানহীনতার সমস্যা দূর করতে আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতি ‘আইভিএফ’ (ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন)-এর পরিবর্তে বিশেষ এক ‘দেশি পদ্ধতি’ অনুসরণ করা। তাঁর মতে, প্রথমে কোনো গরুকে আস্ত গম খাওয়াতে হবে। এরপর পশুর মলের সঙ্গে বেরিয়ে আসা অপাচ্য গম সংগ্রহ করে, তা ধুয়ে ও রোদে শুকিয়ে তৈরি করা আটার রুটি ভগবানকে নিবেদন করে খেলে নাকি পুরুষের শুক্রাণুর ঘাটতি ও নারীর জরায়ুর জটিলতা দূর হয়ে সন্তান লাভ সম্ভব!
এ ছাড়া খাঁটি দেশি গরুর গোবর শরীরে মাখলে কিংবা গোবর দিয়ে গোসল করলে ত্বকের বিভিন্ন ব্যাধি সেরে যাওয়ার পাশাপাশি প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা বাড়ে বলেও দাবি করেন তিনি। অন্যদিকে বিস্কুটের মতো আধুনিক প্যাকেটজাত খাবারকে তিনি ‘বিষ-কিট’ বা বিষের সমতুল্য বলে অভিহিত করেন এবং দৈনন্দিন জীবনে গোমূত্র ব্যবহারের পক্ষে যুক্তি দেন। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে প্রকাশিত বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন ও বেশ কিছু টেলিভিশন সাক্ষাৎকারেও তাঁর এসব বক্তব্যের স্বপক্ষে প্রাচীন গ্রন্থ ‘রঘুবংশমে’ বর্ণিত রাজা দিলীপের কাহিনির কথা উল্লেখ করতে দেখা গেছে।
তবে কথক অনিরুদ্ধাচার্যের বিপুল জনপ্রিয়তার সুযোগ নিয়ে সংবেদনশীল ও স্বাস্থ্যবিষয়ক ক্ষেত্রে এ ধরনের ভ্রান্ত পরামর্শ ছড়ানোর বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা। টেলিভিশন বিতর্ক অনুষ্ঠানে যুক্তিবাদী ও চিকিৎসকেরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, গোবর বা পশুর মল থেকে প্রাপ্ত শস্যদানা খেলে সন্তানহীনতা দূর হয়—এমন দাবির সপক্ষে কোনো বৈজ্ঞানিক বা ক্লিনিক্যাল প্রমাণ নেই।
উল্টো অপরিশোধিত গোবর ও পশুর মলে থাকা মারাত্মক ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ, পেটের অসুখ ও পরিপাকতন্ত্রের মারাত্মক জটিলতার ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। সমালোচকদের মতে, ধর্মানুভূতি বা ভক্তির সঙ্গে চিকিৎসাবিজ্ঞানকে এক করে দেখা অনুচিত। ভারতের সংবিধানে উল্লিখিত বিজ্ঞানমনস্কতার পরিপন্থি এসব অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।