
পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে বিক্ষোভ, সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের কারণে টানা চার দিন ধরে দেশের পোশাক শিল্পে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চার শতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে, যা দেশের প্রধান রপ্তানি খাতকে গভীর উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে ফেলেছে।
শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, যেমন খাবার, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও সন্তানের পড়াশোনার খরচ মেটাতে হিমশিম খাওয়ার বাস্তবতায় মজুরি বাড়ানোর দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক। দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম সাড়ে ১২ হাজার টাকার বর্তমান মজুরি বেশ কম। ফলে জীবনযাত্রার মান ও মুদ্রাস্ফীতির সাথে সঙ্গতি রেখে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির দ্রুত সমাধান অপরিহার্য।
তবে আন্দোলনের নামে কারখানা ও সরকারি সম্পত্তিতে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ কিংবা সংবাদকর্মীদের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সহিংস ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানানো হচ্ছে। সাময়িক কারখানা বন্ধ দীর্ঘায়িত হলে উৎপাদনসূচি ও সময়মতো পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হবে, যা বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা নষ্ট করে আন্তর্জাতিক বাজার হারানোর বড় ঝুঁকি তৈরি করবে।
বিদ্যমান সংকট নিরসনে গঠিত নিম্নতম মজুরি বোর্ডকে অবিলম্বে দৃশ্যমান পদক্ষেপ ও স্বচ্ছ আলোচনার মাধ্যমে এগিয়ে যেতে হবে। একই সাথে শ্রমিকদের শান্তিপূর্ণভাবে কর্মস্থলে ফিরে বোর্ডের ওপর আস্থা রাখার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। মালিক, সরকার ও শ্রমিক সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ ও সংলাহই কেবল শ্রমিকের অধিকার রক্ষা করে শিল্পের নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন ও দেশের অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব সুনিশ্চিত করতে পারে।