
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নানা বিতর্ক ও আইনি তদন্তের মুখোমুখি হওয়া সত্ত্বেও নিজের শক্ত ঘাঁটি ধরে রেখেছেন সোমালি বংশোদ্ভূত ডেমোক্র্যাট রাজনীতিক ইলহান ওমর। মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা জন নাগেলকে পরাজিত করে তিনি আবারও যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
টানা পঞ্চমবারের জয়: ২০১৮ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রথমবারের মতো প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন ইলহান ওমর। এরপর থেকে ২০২০, ২০২২, ২০২৪ এবং সর্বশেষ ২০২৬ সালের নির্বাচনেও বিজয়ী হয়ে আসছেন তিনি। দেশটির ডেমোক্রেট-অধ্যুষিত মিনেসোটার পঞ্চম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের প্রতিনিধিত্ব করছেন তিনি এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম দুই মুসলিম নারী কংগ্রেস সদস্যের একজন হিসেবেও পরিচিত।
তদন্ত ও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ইলহান: নির্বাচনী বিজয় আসলেও ওমরের চারপাশের বিতর্ক ও আইনি তদন্ত পিছু ছাড়েনি। গত ১২ অক্টোবর ওয়াশিংটন ডিসিতে তাঁর বাসভবনে অভিযান চালান হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশন্সের (এইচএসআই) কর্মকর্তারা। এ সময় তাঁর ফোন, পাসপোর্ট, কম্পিউটার জব্দ করার পাশাপাশি ডিএনএর নমুনাও সংগ্রহ করা হয়।
ফক্স নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার আবেদনে তিনি বা তাঁর বাবা কোনো তথ্য গোপন বা মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি তাঁর আর্থিক বিবরণী নিয়েও একটি পৃথক তদন্ত চলছে। এছাড়া ২০০৯ সালে আহমেদ নূর সাইদ এলমিকে বিয়ে করার পর আদালতের নথিতে তাঁর নাম আসায় পুরোনো একটি অভিবাসন জালিয়াতির অভিযোগ নতুন করে সামনে আনা হয়েছে, যেখানে এলমি তাঁর ভাই ছিলেন বলে দাবি করা হয়। তবে ওমর বরাবরই এই অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন এবং ২০১৬ সালের পর ২০২১ সালে এই বিষয়ে তদন্ত বন্ধও হয়ে গিয়েছিল।
ওমরের প্রতিক্রিয়া: নিজের বিরুদ্ধে চলা তদন্তগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যায়িত করেছেন ইলহান ওমর। তিনি দাবি করেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাজনৈতিক কারণে তাঁকে এবং তাঁর দলকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছেন। ওমরের মুখপাত্রও এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন রাজনৈতিক অপপ্রচার বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। সব বিতর্কের মাঝেই ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে এবং সোমালি কমিউনিটির সমর্থন নিয়ে নিজের নির্বাচনী প্রচারণা সফলভাবে সম্পন্ন করেন এই ডেমোক্র্যাট নেত্রী।