
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাবেক স্ত্রীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগে সাতক্ষীরার এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাতে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার চণ্ডীপুর গ্রাম থেকে আব্দুল্লাহ আল মামুন (২৯) নামের ওই কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
মামলার পটভূমি ও অভিযোগ: মামলার বাদী সাহেব আলী দেবহাটা উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান। বর্তমানে তিনি সাতক্ষীরায় বসবাস করছেন। গত ১ নভেম্বর তিনি বাদী হয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় পর্নোগ্রাফি আইনে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক বিভিন্ন কারণে প্রায় ৬-৭ মাস আগে স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস ওরফে মৌসুমীকে তালাক দেন সাহেব আলী। পরবর্তী সময়ে বাদীর সাবেক স্ত্রীর কাছে থাকা দম্পতি জীবনের বিভিন্ন অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও হাতিয়ে নিয়ে শুরু হয় ব্ল্যাকমেইল।
গত ১৫ অক্টোবর হোয়াটসঅ্যাপে ওই ভিডিও পাঠিয়ে বাদীকে ভয়ভীতি দেখানো হয়। এরপর ২০ অক্টোবর পুনরায় যোগাযোগ করে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় এবং টাকা না দিলে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে কিছু টাকা লেনদেন করা হলেও ব্ল্যাকমেইল বন্ধ হয়নি। উল্টো গত ২৯ অক্টোবর ‘সখিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদল’ নামের একটি ফেসবুক আইডি এবং ১ নভেম্বর আব্দুল্লাহ আল মামুনের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে বাদীর ব্যক্তিগত আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও প্রকাশ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
যাঁদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে: এই পর্নোগ্রাফি মামলায় মোট ৩ জন এজাহারনামীয়সহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার আসামিরা হলেন:
১ নম্বর আসামি: জিসান বাবুল (সভাপতি, সখিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদল)
২ নম্বর আসামি: আব্দুল্লাহ আল মামুন (কনটেন্ট ক্রিয়েটর)
৩ নম্বর আসামি: জান্নাতুল ফেরদৌস ওরফে মৌসুমী (বাদীর সাবেক স্ত্রী)
পুলিশের বক্তব্য: ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাতক্ষীরা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জামিল কবির গণমাধ্যমকে জানান, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীর আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে অর্থ আদায়ের প্রমাণ মিলেছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।