
যুক্তরাষ্ট্রের বহুল চর্চিত মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬-এ বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টিকে পরাজিত করে মার্কিন সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করেছে বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। টেক্সাস, ওহাইও, নর্থ ক্যারোলাইনা ও সাউথ ক্যারোলাইনার মতো ৪টি গুরুত্বপূর্ণ আসন ছিনিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে সিনেটে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করল দলটি।
মাত্র এক বছর আগেও ডেমোক্র্যাটদের জন্য এমন জয়কে প্রায় অসম্ভব বলে মনে করা হচ্ছিল। তবে এই সাফল্যের মধ্য দিয়ে ২০২৭ সাল থেকে সিনেটের ক্ষমতার চাবিকাঠি এখন ডেমোক্র্যাটদের হাতে।
চাক শুমারের প্রত্যাবর্তন ও নীতিনির্ধারণে প্রভাব: সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার মাধ্যমে আবারও সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা (Senate Majority Leader) হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পথ সুগম হলো ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমারের। এর ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর কড়া নজরদারি, প্রশাসনিক ও বিচার বিভাগীয় নিয়োগ অনুমোদন এবং নতুন আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে শক্তিশালী ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা লাভ করল ডেমোক্র্যাটরা।
যে চার আসনে ডেমোক্র্যাটদের জয়: সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিতে ডেমোক্র্যাটদের অন্তত ৪টি আসন নিজেদের দিকে টানার দরকার ছিল। নির্বাচনে নর্থ ক্যারোলাইনা, সাউথ ক্যারোলাইনা, টেক্সাস এবং ওহাইও,এই ৪টি রিপাবলিকান দুর্গে জয়ী হয়ে সেই লক্ষ্য পূরণ করেছে তারা:
নর্থ ক্যারোলাইনা: সাবেক গভর্নর রয় কুপার রিপাবলিকান প্রার্থী মাইকেল হোয়াটলিকে পরাজিত করেছেন।
সাউথ ক্যারোলাইনা: ডেমোক্র্যাট শিশু চিকিৎসক অ্যানি অ্যান্ড্রিউজ হারান রিপাবলিকান প্রার্থী ডারলিন গ্রাহামকে।
টেক্সাস: ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস তালারিকো টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনকে পরাজিত করে বড় অঘটন ঘটান।
ওহাইও: ওহাইওর সিনেট আসনে জয়ী হয়েছেন সাবেক ডেমোক্র্যাট সিনেটর শেরড ব্রাউন।
ট্রাম্পের জন্য বড় রাজনৈতিক প্রত্যাখ্যান: রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা এই ফলাফলকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি ও নেতৃত্বের প্রতি জনগণের সরাসরি প্রত্যাখ্যান হিসেবে দেখছেন। নির্বাচনের প্রচারণায় পুরো অক্টোবরজুড়ে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে জোর প্রচারণা চালিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের কমে আসা জনপ্রিয়তাই রিপাবলিকান প্রার্থীদের পরাজয়ের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়াল।