
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের সেডোনা শহরের ওক ক্রিকের কাছে হঠাৎ দেখা দেওয়া ভয়াবহ ও আকস্মিক বন্যার কবলে পড়েছিলেন এক মার্কিন দম্পতি। চারদিক দ্রুত ঘোলা পানিতে সয়লাব হয়ে চরম প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি হলেও নিজেদের প্রিয় পোষা কুকুরটিকে ফেলে পালিয়ে যাননি তাঁরা। বরং বুদ্ধি ও সাহসিকতা খাটিয়ে কুকুরটির জীবন বাঁচিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসায় ভাসছেন ওই ব্যক্তি।
‘পিপল’ ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলেকজান্ডার ডেল, তাঁর স্ত্রী এবং তাঁদের ভাড়াবাড়িতে থাকা প্রায় ৯ জন অতিথি বানের পানিতে পুরোপুরি আটকা পড়েন। পালানোর কোনো পথ না থাকায় বাধ্য হয়ে তাঁরা বাড়ির ছাদে গিয়ে আশ্রয় নেন।
আলেকজান্ডার ডেল ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, “আমরা বুঝতেই পারছিলাম না আমাদের কী করা উচিত। চারদিকে শুধু পানি আর পানি, যাওয়ার মতো কোনো নিরাপদ জায়গা ছিল না।”
ছাদ থেকে নাটকীয় উদ্ধার অভিযান: উৎকণ্ঠা ও আতঙ্কের মধ্যে প্রায় তিন ঘণ্টা আটকে থাকার পর জরুরি সেবার একটি উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার ছাদ থেকে তাঁদের সরিয়ে নিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। উদ্ধারকারী দল একে একে সবাইকে বিশেষ হারনেস (সুরক্ষাবেষ্টনী) দিয়ে জড়িয়ে উপরে তুলে নিতে শুরু করে। তবে বিপত্তি বাঁধে তখন, যখন দলটি জানায় তাঁদের কাছে কুকুরের জন্য উপযুক্ত কোনো বিশেষ 'K-9 হারনেস' নেই এবং প্রাণীটিকে কীভাবে বিমানে তোলা হবে তা নিয়ে সংশয় দেখা দেয়।
ডেল বলেন, “উদ্ধারকর্মী যখন বললেন কুকুরের হারনেস না থাকায় তাকে নিতে পারবেন কি না নিশ্চিত নন, আমি সিদ্ধান্ত নিই যেভাবেই হোক তাকে বাঁচাতেই হবে।”
উদ্ধারের অভিনব কৌশল: কুকুরটিকে ছাদেই ফেলে আসতে অস্বীকার করে ডেল তাৎক্ষণিকভাবে মানুষের ব্যবহারযোগ্য তিনটি সাধারণ হারনেস একসঙ্গে যুক্ত করে একটি মজবুত বিকল্প বেষ্টনী তৈরি করেন। এরপর সেটি পরম সতর্কতায় কুকুরের শরীরে সেট করেন। ডেল নিজে সেই মূল হারনেসে বসে প্রিয় পোষ্যকে বুকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রশির সাহায্যে হেলিকপ্টারে উঠে আসেন।
অবশেষে নিরাপদেই কুকুরসহ পুরো পরিবারকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন উদ্ধারকারীরা। ডেলের এমন তাৎক্ষণিক বুদ্ধি ও প্রাণীর প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার গল্প ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনরা তাঁকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিচ্ছেন।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই এলাকায় পাহাড় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে একাধিক জরুরি উদ্ধার অভিযান চালাতে হয়েছে। তবে ডেল পরিবারের মতো সৌভাগ্যবশত এ ঘটনায় বড় ধরনের কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।