
প্রতিকূলতা ও আর্থিক সীমাবদ্ধতাকে জয় করে অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে সাফল্য ছিনিয়ে আনার গল্প যেন থামছে না। বিজ্ঞান বিভাগে পড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর একসময় যারা ঠাট্টা করেছিলেন, আজ তাদের জবাব দিয়ে এসএসসিতে জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন কক্সবাজারের বায়তুশ শরফ স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী দিয়া চৌধুরী।
দিয়ার এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে তাঁর চা বিক্রেতা বাবা-মায়ের নিরলস সমর্থন এবং নিজের অটল আত্মবিশ্বাস।
কঠিন সময়ে বাবা-মায়ের অনুপ্রেরণা: দিয়া চৌধুরীর বাবা লিটন চৌধুরী ‘পুষ্প স্টোর ২’ নামের একটি ছোট চায়ের দোকান চালান। দোকানের সামান্য আয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি মেয়ের পড়াশোনার খরচ জুগিয়েছেন তিনি। বিজ্ঞানে পড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর আশপাশের অনেকের নেতিবাচক কথা শুনে মাঝে মাঝে মন খারাপ হলেও বাবা-মা সব সময় তাঁর পাশে থেকে বলেছেন, ‘তুমি অবশ্যই পারবে।’ এই একটিমাত্র বাক্যই কঠিন সময়ে দিয়াকে জুগিয়েছে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস।
বিজ্ঞানের ভালো শিক্ষকের সংকট এবং নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও নিজে বাড়তি চেষ্টা চালিয়ে গেছেন দিয়া। বাবা-মায়ের ত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “তারা না থাকলে আমি কখনোই এই ফল করতে পারতাম না। সব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আমার যা প্রয়োজন হয়েছে, তারা তা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।”
নাম্বার ওয়ান আয়োজিত সংবর্ধনা ও ভবিষ্যৎ স্বপ্ন: দিয়ার মতো চা বিক্রেতাসহ বিভিন্ন পেশার পরিশ্রমী বাবা-মায়ের সন্তানদের শিক্ষাগত সাফল্যের স্বীকৃতি দিতে গত ২৭ অক্টোবর মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের (এমজিআই) জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ‘নাম্বার ওয়ান’ আয়োজন করে ‘নাম্বার ওয়ান বাবার কৃতী সন্তান সংবর্ধনা ২০২৬’। এই আয়োজনে জিপিএ-৫ পাওয়া ১৩৫ জন শিক্ষার্থীকে ক্রেস্ট, সনদ, নগদ অর্থ ও উপহারসামগ্রীর পাশাপাশি আগামী দুই বছরের জন্য টেন মিনিট স্কুলের ফ্রি একাডেমিক কোর্স করার সুযোগ দেওয়া হয়।
এই সংবর্ধনা নিজের ও বাবা-মায়ের জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি উল্লেখ করে দিয়া জানান, টেন মিনিট স্কুলের কোর্সগুলো তাঁর উচ্চমাধ্যমিকের প্রস্তুতি এবং ভবিষ্যতে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়ে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণে দারুণভাবে সহায়তা করবে। মেয়ের এমন সাফল্যে অত্যন্ত গর্বিত বাবা লিটন চৌধুরীও আশা প্রকাশ করেন, তাঁর মেয়ে একদিন মানুষের সেবা করে পরিবারের মুখ উজ্জ্বল করবে।
এমজিআই-এর চিফ অ্যাকাউন্টস অফিসার মো. রহমতুল্লাহ খোন্দকার বলেন, “মেধা ও পরিশ্রমের যথাযথ স্বীকৃতি পেলে শিক্ষার্থীরা নিজেদের স্বপ্ন পূরণে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে। আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থী যেন পিছিয়ে না পড়ে, সে লক্ষ্যেই আমাদের এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।”