
চলমান যুদ্ধ আর উত্তেজনার মাঝেও তেলের বাজার থেকে আয়ের পাহাড় গড়ছে ইরান। ভূ-রাজনৈতিক সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম যখন ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, তখন হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে পারার একচেটিয়া সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে তেহরান প্রতিদিন কয়েক কোটি ডলার অতিরিক্ত আয় করছে। বিশেষ করে চীনের বাজারে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করে দেশটি গত কয়েক মাসের তুলনায় তাদের রাজস্ব অনেক বাড়িয়ে নিয়েছে। সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, মার্চ মাসে ইরানের দৈনিক তেল রপ্তানি যুদ্ধ-পূর্ববর্তী ১৬ লাখ ব্যারেলের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে, যা আন্তর্জাতিক বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক চাপের মুখেও দেশটির অর্থনীতিকে সচল রাখছে।
মজার ব্যাপার হলো, ইরানকে চাপে রাখতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন সময় হামলা চালালেও তেহরানের অর্থ যোগানের পথগুলো এখনো বেশ শক্তিশালী। এমনকি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওয়াশিংটন যখন ইরানি তেলের ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার মতো সিদ্ধান্ত নেয়, তখন তা কার্যত ইরানের জন্য শাপে বর হয়ে দাঁড়ায়। স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত তথ্য এবং ট্যাংকারট্র্যাকার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, খার্গ দ্বীপ টার্মিনাল থেকে একের পর এক বিশাল তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিচ্ছে। যেখানে ইরাক, কুয়েত বা সৌদি আরবের মতো প্রতিবেশী দেশগুলো উৎপাদন কমাতে বা বিকল্প পথ খুঁজতে বাধ্য হচ্ছে, সেখানে ইরান অত্যন্ত কৌশলে পারস্য উপসাগরের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে নিজেদের বাণিজ্যিক লক্ষ্য পূরণ করছে।
তবে এই বিপুল আয় কেবল অর্থনীতির চাকা ঘোরানোর জন্যই নয়, বরং যুদ্ধের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এবং সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনেও ব্যয় করছে ইরান। পশ্চিমা বিশ্বের নানা হুমকি এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কড়া অবস্থানের মাঝেও ইরান তাদের জ্বালানি অবকাঠামোকে সুরক্ষিত রাখতে সক্ষম হয়েছে। উল্টো হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর ট্রানজিট ফি আরোপ করে তারা বাড়তি আয়ের নতুন পথ তৈরি করেছে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা যেখানে অন্য উৎপাদক দেশগুলোর জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেখানে তেলের বাজারের এই সমীকরণ ইরানকে এক অনন্য কৌশলগত ও আর্থিক সুবিধা এনে দিয়েছে।