
নাটোরের গুরুদাসপুরে পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম হত্যা মামলায় অভিযুক্ত নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল আজিজের ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে দ্বিতীয় দফায় আরও দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে গুরুদাসপুর আমলী আদালতের বিচারক মাহমুদুল হাসান শুনানি শেষে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। নুরুজ্জামান মিন্টুকে ইতোমধ্যে জাতীয়তাবাদী যুবদলের যুগ্ম সম্পাদকের পদ থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছে।
আদালত ও মামলার বিবরণ: মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আমীর দ্বিতীয় দফায় আসামি মিন্টুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন জানালে আদালত ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে প্রথম দফায় তিন দিনের রিমান্ড শেষে গত শুক্রবার আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি মো. নজরুল ইসলাম জানান, আসামি মিন্টু বর্তমানে ডিবি হেফাজতে রয়েছেন।
পুলিশ সূত্রের তথ্যমতে, প্রথম দফা রিমান্ডে মিন্টুর দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে গত শুক্রবার ভোরে আলামিন হোসেন (২৬) ও আনিসুর রহমান (২৫) নামে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
উল্লেখ্য, গত ১৪ অক্টোবর রাতে গুরুদাসপুর পৌর শহরের চাঁচকৈড় বাজারপাড়া এলাকায় হেলমেট পরা সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হন শাকিল ইসলাম (৩২)। দীর্ঘ ১২ দিন রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ২৬ অক্টোবর রাতে তিনি মারা যান।
এমপির ভিডিও ভাইরাল ও বিএনপিতে চরম বিভক্ত: ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যাকাণ্ডে সংসদ সদস্যের ছেলের নাম জড়িয়ে পড়া এবং রিমান্ডে নেওয়ার পর থেকেই এলাকাটি জনরোষ ও রাজনৈতিক উত্তেজনায় ফুঁসে উঠেছে। এর মধ্যে নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল আজিজের একটি বিতর্কিত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে।
এই উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং এমপির নৈতিক স্খলনের অভিযোগ নিয়ে করণীয় ঠিক করতে আট ঘণ্টার দীর্ঘ রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছে নাটোর জেলা বিএনপি। মিটিং শেষে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান আসাদ জানান, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জেলা কমিটির ক্ষমতা নেই কোনো সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কের বিরুদ্ধে সরাসরি সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার। তাই সার্বিক তথ্য ও মতামত আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডের কাছে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য পাঠানোর সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, নিহত ছাত্রদল নেতা শাকিলের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল হাসান রাকিব। অপরাধীর দলীয় বা পারিবারিক পরিচয় যাই হোক না কেন, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে কঠোর বিচার নিশ্চিতের অঙ্গীকার করেছেন তাঁরা।