
টাঙ্গাইল শহরে চিপসের লোভ দেখিয়ে চার বছরের এক শিশুকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টা এবং চিল্লাচিল্লি করায় ইট দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে বিপ্লব (২২) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা অভিযুক্তকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে।
রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল শহরের পার্ক বাজার এলাকা থেকে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। গ্রেপ্তার বিপ্লব টাঙ্গাইল সদর উপজেলার পূর্বআদালতপাড়া (চৌধুরী বাজার) এলাকার আব্দুল করিমের ছেলে।
ঘটনার বিবরণ ও মামলা: পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার বিকেলে টাঙ্গাইল শহরের কেন্দ্রীয় কালীবাড়ীর চার তলায় শিশুটিকে চিপস কিনে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে নিয়ে যায় বিপ্লব। সেখানে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হলে শিশুটি চিৎকার শুরু করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বিপ্লব তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ইট দিয়ে নাক ও মুখে সজোরে আঘাত করে মারাত্মকভাবে জখম করে।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় এক রিকশাচালক শিশুটিকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। এ ঘটনায় শনিবার রাতে শিশুটির মা বাদী হয়ে বিপ্লবের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।
পুলিশের বক্তব্য ও আইনগত পদক্ষেপ: টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শনিবার রাতে শিশুটির মা মামলা করার পর রোববার বেলা ১২টার দিকে শহরের পার্ক বাজার এলাকা থেকে অভিযুক্ত বিপ্লবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
চিকিৎসা ও প্রতিমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি: ঘটনার পর শনিবার রাতে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুটিকে দেখতে যান মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি শিশুটির পরিবারকে সান্ত্বনা দেন এবং চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শিশুটির চিকিৎসার সমস্ত ব্যয়ভার বহনের আশ্বাস দেওয়া হয় এবং প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুস জানান, প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনায় ও শিশুটির শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় রোববার সকালে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, “এ ঘটনায় জড়িত অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। ভবিষ্যতে যেন এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা আর না ঘটে, সে বিষয়ে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”