
ইসলাম ধর্মে ঈমানের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো নামাজ। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাআলা বিভিন্ন আয়াতে নামাজের প্রতি যত্নবান হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন। তবে দৈনন্দিন জীবনে দৃষ্টিশক্তিগত সমস্যার কারণে অনেককেই চশমা পরে নামাজ আদায় করতে হয়। প্রশ্ন হলো, চশমা পরে নামাজ আদায় করা শরিয়তে জায়েজ আছে কি না?
বিশিষ্ট মুফতি ও আলেমদের মতে, চশমা পরে নামাজ আদায় করতে কোনো অসুবিধা বা বাধা নেই। তবে নামাজে সেজদা করার সময় চশমার কারণে কপাল এবং নাক যথাযথভাবে মাটিতে রাখতে কোনো বাধা সৃষ্টি হচ্ছে কি না, সেদিকে বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে।
হাদিসের নির্দেশ ও সেজদার নিয়ম: সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমের বর্ণনায় রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, “আমাকে সাতটি অঙ্গের ওপর সেজদা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে: কপাল—এ সময় তিনি হাত দিয়ে নাকের প্রতিও ইশারা করেন—দুই হাত, দুই হাঁটু এবং দুই পায়ের আঙুলের অগ্রভাগের ওপর।” (সহিহ বুখারি: ৮১২, সহিহ মুসলিম: ৪৯০)।
হানাফি ফিকহ ও ফতোয়ার কিতাব অনুযায়ী, সেজদার সময় কপাল ও নাক উভয়টিই মাটিতে রাখা সুন্নতে মুয়াক্কাদা। কোনো ধরনের ওজর বা শক্ত ওজর ছাড়া নাক মাটিতে না রেখে শুধু কপালে সেজদা করা মাকরুহে তাহরিমি।
যে ক্ষেত্রে চশমা খুলে ফেলতে হবে: যদি চশমাটি আকারে এমন বড় হয় বা ফ্রেম এমনভাবে বসে থাকে যে, সেজদা করার সময় চশমার কারণে নাক বা কপাল পুরোপুরি মাটিতে লাগতে বাধাগ্রস্ত হয়, তবে নামাজের সেজদার সময় অবশ্যই চশমা খুলে রাখতে হবে। কারণ চশমার কারণে যদি নাক মাটিতে না ঠেকে, তবে তা নামাজকে ত্রুটিপূর্ণ বা মাকরুহ করে দিতে পারে।
সংক্ষেপে, চশমা পরে নামাজ পড়া সম্পূর্ণ জায়েজ, যদি তা সেজদার রুকন ও সুন্নাত পালনে অর্থাৎ কপাল ও নাক মাটিতে ঠেকানোর ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে। কোনো বাধা সৃষ্টি হলে সেজদার সময় তা নামিয়ে রাখাই শ্রেয়।