
ভারতের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কারচুপি ও ভোটার তালিকা সংশোধনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে দিল্লির বুকে বিশাল শক্তি প্রদর্শন করেছে বিরোধী রাজনৈতিক জোট ‘ইন্ডিয়া’। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে রোববার (১ নভেম্বর) দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ ব্যানারে এই প্রতিবাদ সমাবেশ আয়োজন করা হয়।
সমাবেশকে কেন্দ্র করে ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে হাজার হাজার বিরোধী কর্মী-সমর্থক রাজধানী দিল্লিতে জড়ো হতে শুরু করেন। সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ মিন্টো রোডে মিছিল এসে পৌঁছায় এবং সেখান থেকে বিশাল জমায়েত রামলীলা ময়দানের দিকে অগ্রসর হয়।
কর্মসূচির শুরুতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনে এক জরুরি বৈঠকে মিলিত হন জোটের শীর্ষ নেতারা। বৈঠকে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ফারুক আবদুল্লাহ, এনসিপির সুপ্রিয়া সুলে এবং কেরালার কংগ্রেস নেতা ভি ডি সতীশনসহ প্রবীণ নেতারা অংশ নেন। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও এই রাজনৈতিক জোটে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
নির্বাচন কমিশন ও ভোটার তালিকা নিয়ে ক্ষোভ: কংগ্রেস এমপি শশী তারুর নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, “ভোটার তালিকায় দু-একজন মৃত ব্যক্তির নাম থাকার চেয়ে ১৩ কোটি প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ পড়ে যাওয়া অনেক বেশি মারাত্মক ও বিপজ্জনক। এটি নাগরিকদের মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার নামান্তর।”
অন্যদিকে শিবসেনা (উদ্ধব ঠাকরে) এমপি সঞ্জয় রাউত বলেন, জনগণ এখন মোদি সরকারের পরিবর্তন চায়। আন্দোলনকারীদের আটকানোর চেষ্টা করা হলে প্রতিবাদ আরও তীব্র হবে। তৃণমূল এমপি সাগরিকা ঘোষ সিইসির বিরুদ্ধে বিরোধীদের আনা অপসারণ প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রের আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি জানান।
নিরাপত্তা ও পাল্টা কর্মসূচি: দিল্লি পুলিশের উপকমিশনার রোহিত রাজবীর জানান, রামলীলা ময়দানে প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ হাজার মানুষের ধারণক্ষমতা রয়েছে। সার্বিক নিরাপত্তায় চার হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং প্রবেশের স্থানে আর্চওয়ে মেটাল ডিটেক্টর বসানো হয়েছে।
এদিকে বিরোধীদের এই সমাবেশের জবাবে পাল্টা মিছিলের ডাক দিয়েছে ক্ষমতাসীন বিজেপি। সমাবেশকে কেন্দ্র করে দিল্লির বিভিন্ন স্থানে ব্যানার-পোস্টার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও বিরোধী কর্মীদের মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।