
বলিউড সুপারস্টার রণবীর সিংয়ের নতুন স্পাই থ্রিলার ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ বক্স অফিসে রীতিমতো তাণ্ডব চালাচ্ছে। মুক্তির মাত্র আট দিনেই ছবিটি এমন সব রেকর্ড ভেঙে চুরমার করেছে, যা অনেক বড় বাজেটের সিনেমার জন্যও স্বপ্ন। আদিত্য ধরের পরিচালনায় এই ছবিটি দর্শকদের মনে এতটাই জায়গা করে নিয়েছে যে, মাত্র এক সপ্তাহ পার হতেই এটি ভারতের বক্স অফিসে ৬৬৭ কোটি টাকার গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে। সিনেমা হলগুলোতে দর্শকদের উপচে পড়া ভিড়ই প্রমাণ করছে রণবীরের এই ধুরন্ধর অবতার কতটা সফল।
বক্স অফিসের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মুক্তির অষ্টম দিনে রাত পর্যন্ত ছবিটির আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা। যদিও আগের দিনের তুলনায় আয়ে সামান্য কিছুটা পতন লক্ষ্য করা গেছে, তবুও সামগ্রিক অর্জনে এটি অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। ভারতের বাজারে সব ভাষা মিলিয়ে আট দিনে ছবিটির মোট নেট কালেকশন এখন ৬৬৭.২২ কোটি টাকা। হিন্দি বলয়ের পাশাপাশি দক্ষিণ ভারতের তামিল ও তেলুগু ভাষাভাষী দর্শকদের মধ্যেও ছবিটি নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।
এই অভাবনীয় সাফল্যের পথে ‘ধুরন্ধর ২’ পেছনে ফেলে দিয়েছে শাহরুখ খানের ব্লকবাস্টার ‘জওয়ান’ এবং প্রভাস-দীপিকার আলোচিত সিনেমা ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’-কে। ভারতীয় বক্স অফিসে ‘জওয়ান’-এর মোট সংগ্রহ ছিল ৬৪০ কোটি টাকার মতো, আর ‘কল্কি’ আয় করেছিল প্রায় ৬৪৬ কোটি টাকা। মাত্র আট দিনেই সেই মাইলফলকগুলো অনায়াসেই টপকে গেছে রণবীরের এই ছবি। বিশেষ করে উদ্বোধনী দিনগুলোতে একশ কোটির বেশি আয় করে ছবিটি নিজের শক্ত অবস্থানের জানান দিয়েছিল।
দর্শক উপস্থিতির হারের দিকে তাকালে দেখা যায়, দিনের বিভিন্ন সময়ে হলের গড় অকুপেন্সি ছিল প্রায় ৩৬ শতাংশের বেশি। সন্ধ্যার শোগুলোতে এই হার ৪৩ শতাংশ ছাড়িয়ে গিয়েছিল। রণবীর সিং ছাড়াও এই তারকাবহুল সিনেমায় অভিনয় করেছেন সঞ্জয় দত্ত, অর্জুন রামপাল এবং আর. মাধবনের মতো দাপুটে অভিনেতারা। গল্পের বুনন আর অ্যাকশন দৃশ্যের প্রশংসা করছেন সাধারণ দর্শকরা, যদিও কিছু সমালোচকের মাঝে এটি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে।
বক্স অফিসের এই ঊর্ধ্বমুখী গ্রাফ বজায় থাকলে ‘ধুরন্ধর ২’ আগামীতে আরও বড় কোনো মাইলফলক স্পর্শ করবে বলে ধারণা করছেন সিনেমা বিশ্লেষকরা। স্পাই থ্রিলার ঘরানার ছবি হিসেবে এটি ইতিমধ্যে বলিউডের অন্যতম সেরা সফল সিনেমার তালিকায় নাম লিখিয়ে নিয়েছে। রণবীর সিংয়ের ক্যারিয়ারে এটি যে অন্যতম বড় টার্নিং পয়েন্ট হতে যাচ্ছে, তা এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।