
ফিফা প্রীতি ম্যাচে ভিয়েতনামের মুখোমুখি হয়ে এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল দল। বিদেশের মাটিতে স্বাগতিকদের গতি আর সুশৃঙ্খল ফুটবলের সামনে শুরু থেকেই চাপে ছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। শেষ পর্যন্ত ভিয়েতনামের কাছে ৩-০ গোলের ব্যবধানে হার মেনে মাঠ ছাড়তে হয়েছে বাংলাদেশি ফুটবলারদের। ম্যাচের পুরো সময়জুড়ে দুই দলের শক্তির পার্থক্য স্পষ্ট ফুটে ওঠে, যেখানে প্রতিপক্ষের আক্রমণ সামলাতে বেশ হিমশিম খেতে হয়েছে রক্ষণভাগকে।
এই ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল প্রবাসী তারকা ফুটবলার হামজা চৌধুরীর অন্তর্ভুক্তি। তাকে ঘিরে ভক্তদের মাঝে ব্যাপক প্রত্যাশা থাকলেও মাঠের লড়াইয়ে তার একার পক্ষে ম্যাচের মোড় ঘোরানো সম্ভব হয়নি। কোচিং স্টাফরা হামজাকে মূল একাদশে জায়গা দিতে গিয়ে অভিজ্ঞ অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়াকে সাইডলাইনে রাখার সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে ভিয়েতনামীরা আগে থেকেই হামজার খেলার ধরন বিশ্লেষণ করে তাকে বোতলবন্দি করার ছক কষেছিল, যা মাঠের খেলায় সফলভাবে বাস্তবায়ন করে তারা মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের করে নেয়।
ম্যাচের ফলাফল বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে। প্রীতি ম্যাচগুলো মূলত ভুলত্রুটি সংশোধনের জায়গা হলেও এই বড় হার প্রমাণ করে যে আন্তর্জাতিক স্তরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলে দলগত সমন্বয়ে আরও উন্নতির অবকাশ রয়েছে। বিশেষ করে রক্ষণভাগের তালগোল পাকানো অবস্থা এবং আক্রমণভাগের ধারহীনতা নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের চেয়েও একটি সুসংগঠিত দলের বিরুদ্ধে জয় পেতে যে সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজন, সেটিই ছিল এই ম্যাচে বাংলাদেশের বড় ঘাটতি।