
পুলিশের দাপ্তরিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত গত ১০ মাসে খুলনা মহানগর ও জেলা মিলে অন্তত ৭১ জন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এসব ঘটনায় মোট ৬৯টি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে, অর্থাৎ গড়ে প্রতি চার দিনে একটি করে মার্ডার কেস নথিভুক্ত হচ্ছে। ২০২১ সাল থেকে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) ও জেলা পুলিশের আওতায় এটিই সর্বোচ্চ হত্যাকাণ্ডের হার। মহানগরীর সদর থানা (৮টি) এবং জেলার রূপসা থানায় (১২টি) সবচেয়ে বেশি খুনের ঘটনা ঘটেছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত পেরিয়ে আসা অবৈধ অস্ত্রের সহজলভ্যতা এবং এলাকাভিত্তিক অপরাধী চক্রগুলোর মুখোমুখি অবস্থানই এই সহিংসতার মূল কারণ। খুলনায় মাদক ব্যবসা, বালু-মাছের ঘের দখল এবং চাঁদাবাজির বাজার নিয়ন্ত্রণে ‘গ্রেনেড বাবুর বি-কোম্পানি’, ‘নূর আজিম গ্রুপ’, ‘আশিক বাহিনী’ ও ‘টেংকি শাওন গ্রুপ’-এর মতো সন্ত্রাসী গ্যাংগুলো সক্রিয় রয়েছে। বিশেষ করে ‘বি-কোম্পানি’র প্রায় ৮ শতাধিক সদস্য খুলনা ও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভাড়াটে খুনি ও দখলদার হিসেবে অপকর্ম পরিচালনা করছে বলে নিশ্চিত করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।
চলতি বছরে কেএমপি ও জেলা পুলিশ অভিযান চালিয়ে মোট ৭৬টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ২৮৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে। উদ্ধারকৃত অস্ত্রের তালিকায় ৩০টি বিদেশি পিস্তল ও ৭টি রিভলবার রয়েছে, যার বেশিরভাগই সীমান্ত দিয়ে চোরাচালান হয়ে আসা বলে অনুমান গোয়েন্দাদের।
খুলনা সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সহ-সভাপতি গৌরাঙ্গ নন্দীর মতে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও প্রশাসনিক রদবদলের পরও মাদকের বাজারের নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদাবাজি বন্ধ না হওয়ায় জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্প্রতি রাতে একাকী টহল বা চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে খুলনা জেলা বিশেষ শাখা (এসবি)।