
অন্ধ্রপ্রদেশের কাঁকিনাড়ার ইয়ানাম উপকূলে শক্তিশালী সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর ল্যান্ডফল (উপকূলে আঘাত হানা) শেষ হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ১টা ২৩ মিনিট নাগাদ পুদুচেরির ইয়ানাম ও অন্ধ্রের বাপাটলা-বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূলে ঝোড়ো হাওয়া ও তাণ্ডব চালিয়ে আছড়ে পড়ে ঝড়টি। আছড়ে পড়ার সময় ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার।
বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা এই ল্যান্ডফল প্রক্রিয়ার প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে উপড়ে পড়েছে অসংখ্য গাছপালা, ভেঙে পড়েছে কাঁচা ঘরবাড়ি ও রাস্তার অবকাঠামো এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বহু এলাকায়। সেই সাথে মুষলধারে বৃষ্টির কারণে উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে তীব্র জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। ওড়িশার গজপতি, গঞ্জাম, রায়গাড়া, কোরাপুট, পুরীসহ একাধিক জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। সুরক্ষাজনিত কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার পাশাপাশি ট্রেন চলাচলও স্থগিত করা হয়েছে।
এদিকে, ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর পরোক্ষ প্রভাবে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের উপকূলবর্তী এলাকাগুলোতে ঝড়ো হাওয়াসহ ভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তা জারি করেছে আবহাওয়া অফিস। দক্ষিণ ২৪ পরগনা সহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন উপকূলীয় জেলা ও দক্ষিণবঙ্গে বুধবার ও বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়াসহ প্রবল বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বঙ্গোপসাগরে থাকা মৎস্যজীবীদের অবিলম্বে উপকূলে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং সুন্দরবনসহ দুর্যোগপ্রবণ উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে মাইকিং করে মাইকযোগে প্রচার ও সতর্কবার্তা জারি রাখা হয়েছে।