
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার হাটিয়া গ্রামে একটি বাউল অনুষ্ঠানকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনুষ্ঠানটি ছিল যুক্তরাজ্য প্রবাসী শওকত আলীর বাড়িতে। তার মেয়ের জন্মদিন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার রাতে (২২ অক্টোবর) এই বাউল গানের আসর হওয়ার কথা ছিল। স্থানীয় নারী বাউল শিল্পী তানিশা ও নীলার গান গাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অনুষ্ঠানটি নিয়ে আপত্তি ওঠে এবং পুলিশের কাছে অভিযোগ যায়।
স্থানীয় দুই ব্যক্তি, আতাহার বা আতাউর আলী রাহাত এবং কামরুল হাসান মিতু, বুধবার দিরাই থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। তারা অনুষ্ঠানটি বন্ধ করার দাবি জানান। তাদের যুক্তি ছিল ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের কথা। তারা সতর্ক করেন, অনুষ্ঠান হলে উত্তেজনা তৈরি হতে পারে।
এই অভিযোগের পর পুলিশ বিষয়টি দেখে। অনুষ্ঠানের আয়োজক ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলা হয়। তবে এরপর কী হয়েছে, তা নিয়ে দুটি সংবাদমাধ্যমে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। এই প্রতিবেদনে দুটি তথ্যই তুলে ধরা হচ্ছে, কোনোটিকে চূড়ান্ত বলে দাবি করা হচ্ছে না।
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ২৪ অক্টোবর ভোরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানিয়েছে, অনুষ্ঠানটি শেষ পর্যন্ত হয়েছে। নারী শিল্পীরা গান গেয়েছেন এবং অনুষ্ঠান কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়াই শেষ হয়েছে। প্রতিবেদনের শিরোনামেই বলা হয়েছে, তারা অনুষ্ঠানটি ভন্ডুল করতে পারেননি।
অন্যদিকে ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশ ২৩ অক্টোবর রাতে হালনাগাদ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, পুলিশের হস্তক্ষেপের পর অনুষ্ঠানটি বাতিল বা ছোট করা হয়েছে। সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সেখানে বলা হয়েছে।
এই দুটি তথ্য একসঙ্গে মেলে না। একটি বলছে অনুষ্ঠান হয়েছে, আরেকটি বলছে হয়নি বা ছোট করা হয়েছে। পাঠকদের এই পার্থক্য সম্পর্কে জানানো জরুরি। আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চূড়ান্ত তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত কোনো একটি সংস্করণকে একমাত্র সত্য বলা যাবে না।
দিরাই শুধু একটি উপজেলা নয়। এটি কিংবদন্তি বাউল শিল্পী শাহ আবদুল করিমের এলাকা। বাউল গান এই অঞ্চলের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অংশ। তাই নারী শিল্পীদের অংশগ্রহণ নিয়ে আপত্তি উঠলে সাংস্কৃতিক মহলে প্রতিক্রিয়া হওয়া স্বাভাবিক। অনেক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নারীদের অংশগ্রহণে বাধা দেওয়ার সমালোচনা করেছেন।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে আরেকটি ঘটনাও আছে। ৫ অক্টোবর দিরাইয়ে একটি নারী প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বাধা পেয়েছিল বা স্থগিত হয়েছিল। সেই ঘটনার সঙ্গে বাউল অনুষ্ঠানের বিতর্ককে অনেকে একই ধারার অংশ হিসেবে দেখছেন। স্থানীয় কর্মকর্তারা অবশ্য বিষয়টিকে বড় করে দেখাতে চাননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।
এছাড়া আরেকটি সাংস্কৃতিক খবরও এই সময়ে এসেছে। ২৩ অক্টোবর ঢাকার যমুনা ফিউচার পার্কে রক এন রিদম ৫.০ অনুষ্ঠানে নগর বাউল (জেমস) প্রধান শিল্পী ছিলেন। তবে দিরাইয়ের ঘটনাটি সংবাদমূল্যের দিক থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি নারীদের সাংস্কৃতিক অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
দিরাইয়ের ঘটনা নিয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে। অনুষ্ঠানটি হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে নারী শিল্পীদের নিরাপত্তা ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার প্রশ্নটিও আলোচনায় থাকবে।
আরও পড়ুন: ট্রাইব্যুনালের ৭ রায়ে ২৩ জনের মৃত্যুদণ্ড, সাজা পেলেন ৬৮ জন, পূজার ছুটিতে মেট্রোরেলের বিশেষ সূচি, শুক্রবার চলবে বিকেল থেকে