
সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে আফগানিস্তান শিরোপা জিতেছে। ২৩ অক্টোবর শারজায় অনুষ্ঠিত ফাইনালে আফগানিস্তান জিম্বাবুয়েকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে। জিম্বাবুয়ের ১৬৯ রানের জবাবে আফগানিস্তান ৩৪.৩ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৭০ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে। হাতে ছিল ৯৩ বল।
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় জিম্বাবুয়ে। কিন্তু আফগান বোলারদের সামনে তাদের ব্যাটিং বেশিক্ষণ দাঁড়াতে পারেনি। দলটি ৪৩.৩ ওভারে ১৬৯ রানে অলআউট হয়।
জিম্বাবুয়ের ইনিংসের একমাত্র বড় ভরসা ছিলেন অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। তিনি ৮৩ বলে ৬৮ রান করেন। তার ইনিংসে ছিল তিনটি চার ও তিনটি ছয়। রায়ান বার্ল ৩১ রান করেন। রাজা ও বার্ল মিলে ৬০ রানের জুটি গড়েন। এক পর্যায়ে জিম্বাবুয়ে ১৩৭ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল। তখন শেষ উইকেটে ব্লেসিং মুজারাবানি (অপরাজিত ১৭) ও ওয়েলিংটন মাসাকাদজা মিলে ৩২ রান যোগ করে দলকে ১৬৯ পর্যন্ত নিয়ে যান।
এই ইনিংস দিয়ে রাজা একটি বিরল কীর্তিও গড়েছেন। ইএসপিএনক্রিকইনফোর তথ্য অনুযায়ী, ৪০ বছর বা তার বেশি বয়সে ওয়ানডে টুর্নামেন্টের ফাইনালে হাফ সেঞ্চুরি করা প্রথম ব্যাটার তিনি। তবে একা লড়াইয়ে দলকে বড় সংগ্রহ এনে দিতে পারেননি তিনি।
আফগানিস্তানের বোলিং ছিল শৃঙ্খলাবদ্ধ। রশিদ খান ১০ ওভারে ৪১ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন। মোহাম্মদ নবি ২৫ রান দিয়ে ২ উইকেট, ফজলহক ফারুকি ৪১ রান দিয়ে ২ উইকেট এবং বিলাল সামি ২৭ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন। আজমতউল্লাহ ওমরজাই নেন ১ উইকেট।
রশিদের এই পারফরম্যান্স শুধু ফাইনালের নয়, পুরো টুর্নামেন্টের গল্প। তিনি টুর্নামেন্টে ১১ উইকেট নিয়ে সিরিজসেরা হয়েছেন। আরেকটি কীর্তিও তার নামে যুক্ত হয়েছে। তিনি ওয়ানডে ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয় বোলার, যিনি টানা ছয় ইনিংসে কমপক্ষে তিনটি করে উইকেট নিয়েছেন। ফাইনালে তার নিয়ন্ত্রিত লেগ স্পিন জিম্বাবুয়ের মিডল অর্ডারকে চাপে রেখেছিল।
১৭০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আফগানিস্তান শুরুতে কিছুটা চাপে পড়লেও ধীরে ধীরে ম্যাচ নিজেদের করে নেয়। ইব্রাহিম জাদরান ৯৬ বলে অপরাজিত ৭০ রান করেন এবং ম্যাচসেরা হন। অধিনায়ক রহমত শাহ ৬৩ বলে ৪৩ রান করেন। রহমানউল্লাহ গুরবাজ ৩১ বলে ৩৬ রান করে দ্রুত শুরু এনে দেন।
জাদরান ও রহমত মিলে তৃতীয় উইকেটে ৮২ রানের জুটি গড়েন। এই জুটিই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। শেষ দিকে হাশমতউল্লাহ শাহিদি অপরাজিত ৭ রান করে জয়সূচক বাউন্ডারি মারেন। আফগানিস্তান ৩৪.৩ ওভারেই জয় তুলে নেয়।
এখানে একটি সতর্কতা জরুরি। কিছু সংক্ষিপ্ত স্কোরলাইনে জাদরানের রান ৭৯ বলে দেখানো হয়েছে, কিন্তু ইএসপিএনক্রিকইনফো ও ক্রিকবাজের মূল প্রতিবেদন অনুযায়ী তার রান অপরাজিত ৭০। এই প্রতিবেদনে ৭০ রানই ব্যবহার করা হয়েছে।
এই শিরোপা আফগানিস্তানের জন্য বিশেষ, কারণ তারা পুরো টুর্নামেন্টে অপরাজিত ছিল। এর আগে তারা জিম্বাবুয়েকে ১৫৮ রানে হারিয়েছিল ১৯ অক্টোবর। আর ২১ অক্টোবর বাংলাদেশকে ৭ উইকেটে হারিয়েছিল। তৃতীয় দল হিসেবে বাংলাদেশও এই ত্রিদেশীয় সিরিজে অংশ নিয়েছিল।
আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে ফাইনালের পর শিরোপা জয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। দলের ধারাবাহিকতা, বিশেষ করে রশিদের বোলিং এবং জাদরানের ব্যাটিং, এই সিরিজে তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল। জিম্বাবুয়ের জন্য এই হার হতাশার, কারণ তারা ফাইনালে উঠলেও ব্যাটিংয়ে বড় সংগ্রহ গড়তে পারেনি।
ত্রিদেশীয় সিরিজ শেষ হলেও এই দুই দলের লড়াই এখানেই শেষ নয়। পুরনো সূচি অনুযায়ী ভবিষ্যতে হারারেতে দ্বিপাক্ষিক সাদা বলের সিরিজের কথা রয়েছে, তবে সেটি এই ফাইনালের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা যাবে না। আপাতত আফগানিস্তানের উদযাপনের সময়। অপরাজিত থেকে শিরোপা জেতা যেকোনো দলের জন্যই বড় অর্জন।
আরও পড়ুন: ইতিহাসের প্রথম ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়েকে চাপে রেখেছে ভারতের নারী দল, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, ফিরলেন তাসকিন, অভিষেকেই অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন, পরীক্ষার মুখে আলিস ইসলাম